মাইক্রোতে থাকা কাউকে তুমি (সামিয়া আক্তার) চিনতে পারছো? মনে হয় একজনকে আমি কোথায় যেন দেখেছি। পরে তার (ইরিনা) মা’কে আমি বলেছি আন্টি আপনার মেয়েকে যেন নিয়ে গেছে। কাকা লাগে বলে, নাম রাসেল। পরে তার মা কিছু বলেননি। আমাকে তার (ইরিনা) মা তাদের বাসায় রেখে দেন। আসতে দেয়নি। তারা বলে আমি ইরিনাকে বিক্রি করে দিয়েছি।
কথাগুলো বলেছিল ইরিনাকে সাজিয়ে দেওয়া সামিয়া আক্তার (১৫)।
.png)
মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে ইরিনা নিখোঁজ হয়। সে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী গ্রামের আসাদ মিয়ার মেয়ে। বাবা-মা’র সঙ্গে ইরিনা শ্রীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চন্নাপাড়া এলাকার রুবেল মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রীপুর থানার ওসি আবুল ফজল মো. নাসিম এসব তথ্য জানান।
সামিয়া আক্তার (১৫) সিরাজগঞ্জের আবু বকরের মেয়ে। সে তার মা’র সঙ্গে শ্রীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চন্নাপাড়া এলাকার সাহাব উদ্দিন ভুট্টোর বাড়িতে ভাড়া থাকতো। তার বাবা ইট-বালুর ব্যবসা করেন।
ওসি আবুল ফজল মো. নাসিম জানান, শিশু ইরিনার বাবা মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) শ্রীপুর থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির প্রেক্ষিতে তদন্ত করে আটক পেয়ারা বেগমের ভাড়া ঘরের খাটের নিচ থেকে শিশু ইরিনার (৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুর মুখে স্কচটেপ পেঁচানো হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ছিল এবং গলায় কাটা দাগ ছিল। এ ঘটনায় বুধবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শ্রীপুর থানা পুলিশ সামিয়া আক্তার (১৫) ও তার মা পেয়ারা বেগমকে (৪০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আটকদের বিষয়ে আর কোনো তথ্য দিতে চায়নি। বুধবার (৭ নভেম্বর) শিশুর বাবা আসাদ মিয়া অজ্ঞাত ২/৩ জনকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
নিহত শিশু ইরিনার বাবা আসাদ মিয়া জানান, মঙ্গলবার বিকেলে প্রতিবেশী দুই মেয়ে বাসা থেকে বিয়ে বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে ইরিনাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এ সময় শিশু ইরিনার গলায় স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ছিলো। রাত হয়ে গেলেও মেয়ে বাসায় না আসায় সম্ভাব্য সব স্থানে খুঁজতে থাকেন। মেয়ের সন্ধান না পেয়ে ওই রাতেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই রাতেই পুলিশ তদন্তে আসলে তাদের সন্দেহজনক দুজনের নাম জানান। পুলিশ সন্দেহজনক ওই দু’জনের বাড়ির একটি কক্ষের খাটের নিচ থেকে শিশু ইরিনার লাশ উদ্ধার করে। মেয়ের গলার স্বর্ণের চেইন এবং কানের দুল আত্মসাত করার জন্যই তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন শিশুর বাবা।
ওসি আবুল ফজল মো. নাসিম আরো বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।