কিশোরীর পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর পূর্বে উলিপুর পৌরসভার নাওডাঙ্গা এলাকার শুধান চন্দ্র রায়ের ছেলে শান্ত চন্দ্র রায়ের (২০) সঙ্গে রংপুরের পীরগাছা এলাকার ওই কিশোরীর গ্রামে উৎসবের সময় (দুর্গাপূজা) উভয়ের পরিচয় হয়। সেই থেকে মোবাইলের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।
গত ৬ নভেম্বর ওই কিশোরী বাবা-মায়ের সঙ্গে নানাবাড়ি উলিপুরে (ধামশ্রেনীতে) বেড়াতে আসে। নানাবাড়িতে থাকাকালীন সময় শান্ত চন্দ্রের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ হয়। এরপর শুক্রবার বিকেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমিক শান্ত পৌরসভার নাওডাঙ্গা নামক বিলে ওই কিশোরীকে কৌশলে ডেকে নেন। তারপর তারা দু’জন ওই এলাকায় অবস্থান করেন।
.png)
সেখান থেকে সন্ধ্যার পর অটোরিকশাযোগে অজ্ঞাত স্থানে যাওয়ার সময় ওই এলাকার কয়েকজন বখাটে যুবক তাদের পথরোধ করে কৌশলে শান্তকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। ওই বখাটের দল কিশোরীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক অপহরণ করে পার্শ্ববর্তী দলদলিয়া ইউনিয়নের রাজারাম এলাকার নির্জন জায়গার একটি সেচ পাম্পের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
ধর্ষণের ঘটনাটি প্রকাশ না করার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর কিশোরী কাঁদতে কাঁদতে ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী বাকরেরহাট বাজারের এসে স্থানীয়দের বিষয়টি জানান। এ সময় স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।
ভিকটিমের স্বজনরা জানান, কাউকে কিছু না বলে ঘটনার দিন বিকেলে ওই কিশোরী বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর সবাই তার খোঁজ করতে থাকেন। পরবর্তীতে ওই দিন রাত ১১টার পর তারা জানতে পারেন তাদের মেয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। পরে তারা ছুটে এসে এই নির্মম ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন। এ ঘটনায় পরদিন শনিবার কিশোরীর মা বাদী হয়ে শান্ত চন্দ্রসহ নামীয় চারজন ও অজ্ঞাতনামা দুইজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
উলিপুর থানার ওসি গোলাম মর্তুজা জানান, শনিবার কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।