বুধবার (২২ নভেম্বর) শিবচর থানার এসআই মো. গোলজার আলম বাদী হয়ে অজ্ঞাত তিন শতাধিক ব্যক্তির নামে একটি হত্যা মামলা করেন। এছাড়া ডাকাতির অপর মামলা করেছেন ভুক্তভোগী দেলোয়ার হাওলাদার।
শিবচর থানা সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাত ২টার দিকে শিবচর উপজেলার বাশকান্দি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুম্ভুক এলাকার আবদুল হালিম ফকিরের বাড়িতে পাঁচজনের একটি ডাকাত দল প্রথমে হানা দেয়। এ সময় বাড়ির লোকজন চিৎকার শুরু করলে ডাকাত দলটি পালিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকার ভ্যানচালক দেলোয়ার হাওলাদারের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। ডাকাতরা ওই বাড়ির কিষান তুষার হাওলাদারকে জিম্মি করে দেলোয়ার হাওলাদারের ঘরে প্রবেশ করে। এসময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দেলোয়ারকে আহত করে লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে পালিয়ে যাওয়ার সময় তুষার দৌড়ে গিয়ে ‘ডাকাত, ডাকাত’ বলে চিৎকার করে।
.png)
আরো জানা যায়, এ সময় ডাকাত দল বাজিতপুর ও চর ছলেনামা এলাকায় ঝোপঝাড়ের মধ্যে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে ডাকাত দলের সদস্য মিরজন খালাসী ও হাসমত বেপারীকে আটক করে গণধোলাই দেয়। এতে ঘটনাস্থলে মিরজন মারা যায়। পরে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে হাসমতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা এবং ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ডাকাতির মামলা করেছেন।
এদিকে একই ডাকাতির অভিযোগে ওইদিন ভোরে বাজিতপুর এলাকা থেকে সাগর হাওলাদার ও মোস্তফা কামালকে আটক করে এলকাবাসী। পরে তাদের পুলিশে দিলে বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
শিবচর থানার এসআই মো. গোলজার আলম বলেন, ডাকাতি এবং গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় দুইটি পৃথক মামলা হয়েছে। এরমধ্যে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। যেখানে অজ্ঞাত তিন শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়াধীন।