৭৬১ গাড়ি নিয়ে মোংলায় বিদেশি জাহাজ ‘এমভি মালয়েশিয়ান স্টার’
সিঙ্গাপুর থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রিকন্ডিশন গাড়ি নিয়ে মোংলা বন্দরে নোঙর করেছে বৃহত্তম মালয়েশিয়ার পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি মালয়েশিয়ান স্টার’। জাহাজটি একইসঙ্গে মোট এক হাজার ১৮০টি গাড়ি নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে সরাসরি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
সেখান থেকে প্রথমে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে ৪১৯টি গাড়ি খালাস শেষে ২২ নভেম্বর রাতে ছেড়ে আসে মোংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে। এবারের চালানে ৭৬১টি গাড়ি মোংলা বন্দরে খালাস করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বন্দরের ৫ নম্বর জেটিতে এসে ভিড়ে জাহাজটি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গাড়ি আমদানির মধ্য দিয়ে এ বন্দরের মাধ্যমে একটি বড় রাজস্ব আয় হয় সরকারের।
.png)
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, মোংলা বন্দরে খালাস করা হচ্ছে একের পর এক গাড়িবাহী জাহাজ। চলতি অর্থ বছরের এই ৫ মাসে ১০টি জাহাজে মোট ৯ হাজার ৫১৪টি গাড়ি খালাস হলো এ বন্দরে। বৃহস্পতিবার ৭৬১টি গাড়ি খালাস করা হচ্ছে মোংলা বন্দরে। এরমধ্যে এক্সিও, প্রিমিও, এলিয়ন, অ্যাকোয়া, নোয়া, মিনিবাস ও অ্যাম্বুলেন্সসহ একাধিক ব্র্যান্ডের রিকন্ডিশন গাড়ি রয়েছে। গাড়িগুলো প্রথমে জাপানের নাগোয়া, ইউকোহামা ও ওসাকা বন্দর থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রিকন্ডিশন গাড়ি এনে সিঙ্গাপুরে রাখা হয়। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের আমদানি করা এসব গাড়ি সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়া পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি মালয়েশিয়ান স্টার’ নামের জাহাজে বোঝাই করে নৌপথ পাড়ি দিয়ে মোংলা বন্দরে এসে নোঙর করে।
গত ১৬ নভেম্বর জাপান থেকে আসা সিঙ্গাপুর বন্দর থেকে এক হাজার ১৮০টি গাড়িবোঝাই করে জাহাজটি। প্রথমে চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের পর ২৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ১১টার দিকে বন্দরের ৫ নম্বর জেটিতে এসে জাহাজটি ভিড়ে। আর নোঙরের পরপরই জাহাজ থেকে গাড়ি খালাস কাজ শুরু করে খালাসকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স খুলনা ট্রেডার্স লিমিটেডের প্রতিনিধিরা।
জাহাজটির শিপিং এজেন্ট মেসার্স এনশিয়েন্ট স্টিমশিপ লি. কর্তৃপক্ষ জানায়, মোংলা বন্দর জেটিতে গাড়িগুলো খালাস করতে ১৪/১৬ ঘণ্টা সময় লাগবে। পরে আমদানি করা গাড়িগুলো খালাস শেষ করে তা বন্দর জেটির ইয়ার্ড ও সেডে সারিবদ্ধ করে রাখা হবে। দেশে গাড়ি আমদানি থেকে একটি বড় আকারের রাজস্ব আয় করে কাস্টমস ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত ৭ নভেম্বর ১ হাজার ২৬৬টি গাড়ি নিয়ে মোংলা বন্দরে খালাস করেছিল একই জাহাজ ‘এমভি মালয়েশিয়ান স্টার’।
বারবিডা সাবেক সহ-সভাপতি ও মেসার্স ট্রাস্ট অটো কার’র প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম সম্রাট বলেন, পদ্মাসেতু চালু আর সড়ক পথে অবকাঠামোগত দিক ঠিক হওয়ায় ঢাকার সঙ্গে মোংলা বন্দরের দূরত্ব কমেছে আগের তুলনায় অর্ধেক। এছাড়া আগে মোংলা বন্দর থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে বেশি সময় লাগতো, এখন সেখানে মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছানো যায়। তাই আমদানি-রফতানিকৃত ব্যবসায়ীরা এখন মোংলা বন্দরকেই বেশি পছন্দ করছেন। এ বন্দর ব্যবহার করলে সময় এবং অর্থ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ৩ জুন হক্স-বে অটোমোবাইল কোম্পানি প্রথম ২৫৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির মধ্য দিয়ে মোংলা বন্দরে গাড়ি রাখার কার্যক্রম শুরু হয়।