কোর্ট ম্যারেজ নিয়ে ধস্তাধস্তিতে কলেজছাত্রী নিহত, বাবা-ছেলে গ্রেফতার
নওগাঁ সদরে কলেজছাত্রী রিংকু আক্তারকে (১৮) হত্যার মামলায় প্রেমিক ও তার বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত নাঈম জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার মাটিয়াকুরি গ্রামের আলাউদ্দীনের ছেলে ও তার বাবা আলাউদ্দীন। রিংকু আক্তার একই উপজেলার রাইকালী গ্রামের মৃত রাজ্জাকের মেয়ে।
নওগাঁ সদর থানায় মামলা সূত্রে জানা যায়, কলেজছাত্রী রিংকু আক্তার ও নাঈমের মধ্যে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্ক পরিবারে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। গত ২৭ নভেম্বর সকালে তারা কোর্ট ম্যারেজ করে বিবাহের জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। একটি অটোরিকশায় করে রাজশাহী কোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা হন। নওগাঁ কোর্টে অথবা রাজশাহী কোর্ট ম্যারেজ করা নিয়ে দু’জনের মধ্যে অটোরিকশায় তর্ক-বিতর্ক আর ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে সদর উপজেলার চকগৌরি মেইন রাস্তায় অটোরিকশা থেকে রিংকু ছিটকে পড়ে যান। এতে মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর জখম হন রিংকু। তাকে বাঁচানোর জন্য প্রেমিক নাঈম দ্রুত মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসক তার অবস্থা খারাপ দেখে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন।
.png)
রিংকুকে রেফার্ড করলে নাঈম ভয় পেয়ে তার বাবা আলাউদ্দীনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তার বাবা রাজশাহী ইসলামি হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে রাজশাহী নেয়া হলে ডাক্তার রিংকুকে মৃত ঘোষণা করেন। নাঈম ও তার বাবা ভয় পেয়ে রিংকুর লাশটি ওই রাতে সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের তুলশীগঙ্গা নদীর বেড়িবাঁধের পাশে ফেলে পালিয়ে যান। ২৮ নভেম্বর সকালে স্থানীয়রা মরদেহ দেখে থানা পুলিশে খবর দেন।
এ ঘটনায় নিহত রিংকুর মা শাহিনা বেগম বাদী হয়ে নাঈম ও তার বাবা আলাউদ্দীনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ৩০ নভেম্বর রাতে রাজশাহীর পবা থানা ও জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে অভিযান চালিয়ে বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়।
নওগাঁ সদর থানার ওসি ফয়সাল বিন আহসান বলেন, নাঈম ও রিংকুর মধ্যে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা বিয়ের জন্য রাজশাহী যাওয়ার সময় রাস্তায় মেয়েটি পড়ে আহত হন এবং একপর্যায়ে মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। অভিযান চালিয়ে বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।