আটককৃত মোহাম্মদ নুর উখিয়া উপজেলার বালুখালী ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা শাহ আলমের ছেলে।
সোমবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম।
.png)
উদ্ধার হওয়া শিশু আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ চট্টগ্রাম জেলার লোহাগড়া উপজেলার চুনতি বাগান পাড়ার বাসিন্দা ফরিদুল আলমের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম জানান, দুই মাস আগে মোহাম্মদ নুর নিজের রোহিঙ্গা পরিচয় গোপন করে রামু উপজেলার বাসিন্দা পরিচয়ে ফরিদুলের মুরগির খামারে চাকরি নেন। কাজের সুবাদে মালিকের পরিবারের লোকজন ও শিশু আব্দুল্লাহ আল মিনহাজের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। এরমধ্যে মোহাম্মদ নুরের রোহিঙ্গা পরিচয় জানতে পারেন খামারের মালিক। ৭ ডিসেম্বর শাহ আলম সব দেনা-পাওনা মিটিয়ে মোহাম্মদ নুরকে চাকরি থেকে বাদ দেন।
৮ ডিসেম্বর সকালে মোহাম্মদ নুর মালিকের বাড়িতে রাখা জামা-কাপড় নিতে আসেন। এ সময় তিনি আব্দুল্লাহ আল মিনহাজকে ট্রেন দেখানোর কথা বলে কক্সবাজার নিয়ে চলে আসেন। সারাদিন শিশুটিকে পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। না পেয়ে সন্ধ্যায় শিশুটির বাবা চুনতি পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দেন। ঐদিন রাতেই ফরিদুল আলমকে মোবাইলে কল দিয়ে মোহাম্মদ নুর ছেলের মুক্তি বাবদ ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। মুক্তিপণ না দিলে শিশুটিকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। শিশুটির বাবা দুই দফায় ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেন। খবরটি কক্সবাজার জেলা পুলিশ অবহিত হওয়ার পর জড়িত ব্যক্তিকে আটকের জন্য অভিযান শুরু হয়।
তিনি আরো জানান, রোববার রাতে কক্সবাজার শহরের হোটেল-জোনের প্রিন্স রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার ও মোহাম্মদ নুরকে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া শিশুকে স্বজনদের কাছে এবং মোহাম্মদ নুরকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।