ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

তুচ্ছ ঘটনায় প্রকাশ্যে বৃদ্ধকে কোপাল শ্যালক-ভাগিনা

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:০৯, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩
তুচ্ছ ঘটনায় প্রকাশ্যে বৃদ্ধকে কোপাল শ্যালক-ভাগিনা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গাজীপুর মহানগরে জমিতে গরু প্রবেশ নিয়ে ওমেদ আলী নামে এক বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে কুপিয়েছে শ্যালক ও তার ছেলে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরই মধ্যে বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে কোপানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

রোববার বিকেলে মহানগরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাগা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ৭০ বছরের বৃদ্ধ ওমেদ আলী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নাগা এলাকার বাসিন্দা।  ঘটনায় রাতেই গাজীপুর মেট্টোপলিটন সদর থানায় বৃদ্ধের শ্যালক সাহিদ, স্ত্রী রেবেকা ও তার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের নামে মামলা করেন বৃদ্ধের মেয়ে ওহেদা খাতুন।

ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পতিত জমিতে বৃদ্ধ ওমেদ আলীকে মাটিতে ফেলে শ্যালক সাহিদ পেটাচ্ছেন এবং তার ছেলে সাদ্দাম ধারালো দা দিয়ে কোপাচ্ছেন। চিৎকার করছেন উপস্থিত কয়েকজন নারী।

Advertisement

আহত বৃদ্ধের মেয়ে ওহিদা খাতুন বলেন, আমার বাবা বাড়ি সংলগ্ন মসজিদের পাশেই ছোট ঘর তুলেন। মসজিদের আশপাশে বেড়া দিয়ে বিভিন্ন সবজি ও গাছ লাগান আমার বাবা। বিভিন্ন সময় আমার মামার গরু ওই সবজি ও  গাছপালা খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে বাবা বিভিন্ন সময় সতর্ক করেছিল। 

মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা ও গাছপালা রক্ষার জন্য মামাকে বার বার সতর্ক করার পরও শুনেননি। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে বিতর্ক হলে মামা বাড়ি চলে গেলে বাবা মসজিদের পাশে বাঁশ দিয়ে বেড়া নির্মাণের কাজ করছিলেন। পরে মামা সাহিদ ও মামাতো ভাই সাদ্দাম হোসেন বাঁশ লাঠি দিয়ে আমার বাবাকে পেটানো শুরু করেন। লাঠি ভেঙে গেলে বাবার কাজ করা দা নিয়ে কোপাতে থাকেন।

তিনি আরো বলেন, কোপানোর ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সাহিদ নিজেই নিজের হাত কেটে হাসপাতালে ভর্তি হন। এখন পুলিশ পাহারায় রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। 

মামলার আসামি সাহিদ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি বলেন, আমাকে এবং আমার স্ত্রীকেও মারধর করেছেন ওই বৃদ্ধ। পরে আমার ছেলে রেগে গিয়ে তার ওপর আক্রমণ করেন। আমার দুলাভাই লোক ভালো না, নেশা পানি খায়, বোনের সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো না। আমি হাসপাতালে আছি, আমিও মামলা করব।

গাজীপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনার পর একটি মামলা হয়েছে। মামলার একজন আসামি হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় রয়েছে। তদন্ত করা হচ্ছে, দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!