ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

যশোরে সৎমায়ের নির্যাতনে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৪১, ১৩ জানুয়ারি ২০২৪
যশোরে সৎমায়ের নির্যাতনে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা- ফাইল ফটো

যশোরে সৎমায়ের নির্যাতনের শিকার হয়ে আয়শা খাতুন নামে দেড় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার দুপুর একটার দিকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। এ ঘটনায় মৃত শিশুর বাবা পিন্টু মিয়া ও সৎমা পারভীনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। মৃত আয়শা যশোর শহরের খড়কি ধোপাপাড়া এলাকার পিন্টু মিয়ার মেয়ে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শুভাশিস রায় জানান, শনিবার দুপুর একটার দিকে আয়শা খাতুনকে তার পরিবারের সদস্যরা গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তার মাথা, মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। সাথে সাথেই তাকে ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুক্ষণ পর আয়েশার মৃত্যু হয়।

Advertisement

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আয়শার বাবা পিন্টু মিয়া পেশায় একজন রং মিস্ত্রি। কাজের জন্য প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে যান তিনি। পিতার অনুপস্থিতিতে গত চারদিন ধরে আয়শাকে মারধরসহ শারীরিক নির্যাতন করেন তার সৎমা পারভীন সুলতানা। শনিবারও শিশু আয়শাকে মারধর করে তার সৎমা। মারধরে অজ্ঞান হয়ে যায় শিশু আয়শা। এরপরে তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।

আয়শার সৎমা পারভীন জানিয়েছেন, আয়শার একটা ভাই আছে। তাদের মা দেড় বছর আগে অন্যের সাথে সম্পর্ক করে ছেলে-মেয়ে ফেলে চলে গেছে। এদিকে পারভীনের প্রথম স্বামীর সঙ্গে সংসার করাকালে একটি মেয়ের জন্ম হয়। বর্তমানে মেয়েটির বয়স ৯ বছর। কিন্তু তার প্রথম স্বামী অন্য একটা মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক করে বিয়ে করায় পারভীনের সঙ্গে তালাক হয়ে যায়। পারভীন এক বছর আগে পিন্টুর সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসার করে আসছিলেন। দুইটি সন্তানকে তারা খুবই ভালোবাসতেন। শনিবার অতিরিক্ত শীতে হঠাৎ মাটিতে পড়ে গিয়ে আয়শা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।

আয়শার বাবা পিন্টু মিয়া জানিয়েছেন, তার বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। কাজের জন্য কয়েক বছর আগে যশোরে আসেন। আয়শার মা পরকীয়া করে চলে যাওয়ার পর পারভীনকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। শনিবার সকালে কাজের জন্য তিনি বাসা থেকে বের হন। দুপুর ১২টার দিকে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে আয়শাকে মৃত দেখতে পান। কিন্তু কী ঘটেছে তিনি এখনো জানেন না।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই পলাশ বিশ্বাস জানিয়েছেন, শিশুটিকে মারধরে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার মা ও বাবাকে হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!