ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মা-মেয়েকে গণধর্ষণ: জবানবন্দিতে আসামির চাঞ্চল্যকর তথ্য

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৪১, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
মা-মেয়েকে গণধর্ষণ: জবানবন্দিতে আসামির চাঞ্চল্যকর তথ্য
গ্রেফতারকৃত মেহরাজ উদ্দিন

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।  

বুধবার বিকেলে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের ৮নং আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া ইসলাম ওই আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জবানবন্দি দেওয়া আসামির নাম মেহরাজ উদ্দিন (৪৮)। তিনি চরওয়াপদা ইউনিয়নের নুরুল আমিনের ছেলে।

Advertisement

চরজব্বর থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আসামি মেহরাজ দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে মামলার প্রধান আসামি আবুল খায়ের ওরফে মুন্সী মেম্বার ও মেহরাজ উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে, নির্যাতিত শিশু আদালতে ২২ ধারায় ঘটনার বিবরণ দিয়ে জবানবন্দি প্রদান করে।

মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের চর কাজী মোখলেছ গ্রামের একটি বাড়িতে গত সোমবার ৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত পৌনে ২টা থেকে ২টার মধ্যে বসতঘরের সিঁধ কেটে মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। মামলার প্রধান আসামি চরওয়াপদা ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল খায়ের ওরফে মুন্সী মেম্বার (৫০) মো. মেহরাজকে দিয়ে ঘরের সিঁধ কাটেন। পরে গরু বেপারী মো. হারুনকে (৪২) নিয়ে ওই নারীর ঘরে প্রবেশের পর তাকে ধর্ষণ করেন। ওই সুযোগে মেহরাজ ওই নারীর পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণ করেন। পুলিশ ঘটনার পরপরই সিঁধ কাটার কাজে ব্যবহৃত কোদাল, কাঁচি, কালো প্যান্ট ও কানটুপি জব্দ করে।    

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে সাবেক ইউপি সদস্য আবুল খায়ের মুন্সীকে প্রধান আসামি, হারুনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। তাৎক্ষণিক পুলিশ আবুল খায়েরকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগ রাত ৩টার দিকে চরক্লার্ক ইউনিয়ন থেকে মেহেরাজকে গ্রেফতার করা হয়।

এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ধর্ষণ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় কানে থাকা স্বর্ণের কানের দুল ও ঘরে থাকা নগদ টাকা নিয়ে যান। পরে মেয়ের হাতের বাঁধন খুলে দেন এবং ঘটনার বিষয়ে কাউকে কিছু বললে তাদের প্রাণে মেরে ফেলবেন বলে হুমকি দেন। মূলত হারুন গৃহবধূর বসতঘরে মালামাল আছে বলে মেহেরাজকে চুরি করতে ইন্ধন যোগান। মেহরাজ রাজী হলে সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করেন। প্রবেশের পর হারুনের সঙ্গে মুন্সী মেম্বারকে দেখে মেহরাজ অবাক হন এবং বুঝতে পারেন ধর্ষণ করতেই তাকে দিয়ে চুরির নাটক সাজান।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: ধর্ষণ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!