মঙ্গলবার দুপুরে তাকে জেলা শহরের মাইজদী থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে, গতকাল সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেফতারকৃত আবুল খায়ের ওরফে মুন্সী মেম্বার (৫০) উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাজী মোখলেছ গ্রামের মৃত গোলাপের রহমানের ছেলে।
.png)
নির্যাতিত গৃহবধূর বয়স (৩০) ও তার মেয়ের বয়স (১২)। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী পেশায় একজন দিনমজুর। সে ৩-৪ দিন পর পর বাড়িতে আসেন। তাকে কাজের জন্য প্রায় বাইরে থাকতে হয়। ভুক্তভোগী গৃহবধূর ভাষ্যমতে, এ সুযোগে সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ২টা থেকে ২টার মধ্যে তার বসতঘরের সিঁধ কেটে তাকে এবং তার মেয়েকে ধর্ষণ করেন তিনজন। এরমধ্যে তাকে ধর্ষণ করেন দুইজন ও তার মেয়েকে ধর্ষণ করেন একজন।
নির্যাতিতার স্বামী জানান, মুন্সী মেম্বার কিছুদিন আগে তার স্ত্রীকে পোড়া মোরগ খাওয়ানোর প্রস্তাব দেন এবং বিপদ-আপদে পড়লে সহযোগিতার চেষ্টা করতেন। কিন্তু তার স্ত্রী ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মুন্সী মেম্বার তাকে কল করে উত্যক্ত করতেন। পরে মোবাইল নম্বর ব্লক করে দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এসব কারণে তারা এ ঘটনা ঘটান।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয়া সেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মামলার প্রধান আসামি আবুল খায়ের ওরফে মুন্সী মেম্বারকে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ২ জনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেয়া হয়েছে। ওই মামলায় আরো একজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। গৃহবধূ ও তার মেয়ের ডাক্তারি পরীক্ষা ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে সম্পন্ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক (জেলা জজ) ফাতেমা ফেরদৌস ওই দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ১৬ আসামির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে তাদের অর্থদণ্ডও করা হয়।