স্থানীয়রা জানান, এ নদীতে আগের মতো মাছ না পাওয়া গেলেও এর লাল বালুর সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। এখানকার লাল বালু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে নির্মাণ স্থাপনার জন্য। প্রতি বছর নদীটি কোটি টাকায় ইজারা দিয়ে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করছে। বর্তমান শুকনো মৌসুমে নদীর পাড়ে পলিমাটি পড়া জমিতে স্থানীয় কৃষকরা বোরো ধান রোপণ করেছেন। বর্তমানে ধানক্ষেত সবুজ হয়ে উঠেছে। আবাদের লক্ষণও খুব ভালো। এতে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এক ইঞ্চি জায়গা পতিত না রাখার সরকারি নির্দেশনায় চেল্লাখালী নদীর পাড়ের কৃষকরা ধান উৎপাদনের লক্ষে এবার ঝুঁকছেন নদীতে বোরো আবাদে। মৌসুমের শুরুতেই বীজতলা তৈরি করে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান রোপণ করেছেন। এরইমধ্যে রোপণকৃত ধান নদীর বুকে সবুজের সমারোহ সৃষ্টি করেছে। এতে কৃষকরা নিজের সংসারের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন।
.png)
স্থানীয় কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, নদীর পাড়ের জমিতে পলি পড়ায় অনেক বেশি উর্বর হয়েছে। উর্বর জমিতে ধানের ফলন ভালো হয়। একরে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মণ হারে ধান পাওয়া যায়। নদীর বুকে আগাম বোরো ধান রোপণ করায় ধান কাটার সময় পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকিও নেই। পাহাড়ি ঢল নামার আগেই সোনার ফসল ঘরে তোলা যায়।
ফারুক হোসেন জানান, উপজেলার বুরুঙ্গা ব্রিজের দক্ষিণ পাশে তিনি এবার ৯০ শতাংশ নদী পাড়ের জমি আবাদ করেছেন। এছাড়া জহুর উদ্দিন, হাবিল উদ্দিন ও আছমত আলীসহ প্রায় ১৫ জন প্রান্তিক কৃষক ঐ নদীর বুকে প্রায় ২৫ একরের মতো জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আনোয়ার হোসেন বলেন, চেল্লাখালী নদীর বুকে কৃষকরা বোরো ধান রোপণ করেছেন। এটি খাদ্য উৎপাদন নিরাপত্তায় খুব ভালো উদ্যোগ। নদীর পাড়ের পলিমাটি যুক্ত জমি ধান উৎপাদনের জন্য ভালো, ফলনও বেশি হয়। তাই ধান রোপণের পাশাপাশি নদীর পাড়ে সবজি আবাদ করলেও কৃষক লাভবান হতে পারবেন।