ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বাসর রাতেই স্ত্রীকে তালাক, কনেসহ পরিবার বাড়ি ছাড়া

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:১৪, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বাসর রাতেই স্ত্রীকে তালাক, কনেসহ পরিবার বাড়ি ছাড়া
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পরিণত বয়সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া সব তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন। সামাজিকভাবে বিয়ে হলে বর ও কনের ব্যক্তিগত তথ্য অনেক সময় স্পষ্ট থাকে না। বিয়ের পরে জানতে পারেন একে অপরকে। তবে বর কিংবা কনের বিষয় যদি আপত্তিকর কোনো তথ্য বিয়ের পর জানাজানি হয়, তখনই ঘটে বিপত্তি।

তেমনি চাঁদপুর শহরের পুরান বাজার রিফিউজি কলোনির মমিন মিয়া নামের যুবক বিয়ের পর বাসর রাতেই জানলেন স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। রাতেই স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা করে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে স্ত্রীকে দিলেন তালাক। এ ঘটনার পর কনের বাবাসহ পুরো পরিবার এখন বাড়ি ছাড়া।

গত ২ ফেব্রুয়ারি জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের উত্তর সকদিরামপুর গ্রামের কৈ বাড়িতে বিয়ে হয় মমিন ও স্মৃতির। তবে বিষয়টি জানাজানি হয় গত দু’দিন আগে। 

Advertisement

শুক্রবার রাতে বিয়ে এবং বিচ্ছেদের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. সেলিম।

তিনি বলেন, মেয়ের বাবা শফিক মিজি একজন দিনমজুর। তার চার মেয়ে। এই মেয়ে তৃতীয়। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। আরো একজন ছোট মেয়ে আছে। স্মৃতির পুরান বাজারে বিয়ে হয়েছে জানতে পেরেছি। এরপর মেয়র বাবা আমাকে গত কয়েকদিন আগে বাজারে যাওয়ার পথে জানিয়েছেন তার মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তখন তিনি তার বাড়ির লিটন নামে যুবকের নাম বলেন। এসব বিষয়ে আমি চেয়ারম্যানকে অবগত করি এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেই।

অন্তঃসত্ত্বা স্মৃতির এলাকার লোকজনের অভিযোগ, ঐ পরিবারের লোকজন বহুদিন থেকে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত। তাদেরকে এসব কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য বললে উল্টো অপবাদ দেয়। তাদের এমন কাণ্ডে বাড়ির অন্য পরিবারগুলোর সম্মান হানি হয়। সবাই ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত যুবকদের এবং স্মৃতি পরিবারের আইনানুগ শাস্তি কামনা করেন। তারা বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

অন্তঃসত্ত্বা স্মৃতি জানান, গত এক বছরের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে এলাকার লিটন, ইলিয়াছ মাস্টার, শিমুল ও এলাকার রনি নামে যুবকরা তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। যে কারণে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

এদিকে বর মমিনের মা ছালেহা বেগম জানান, তার ছেলে ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করেন। ছেলের বিয়ের আগে এমন কোনো তথ্যই তাদের জানা ছিল না। বিয়ের রাতে ছেলের বউয়ের এমন পরিস্থিতি দেখে তারা বিস্মিত হয়ে পড়েন। পরে রাতেই তাকে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে অন্তঃসত্ত্বা নিশ্চিত হন। ঐ রাতেই ছেলে ঐ মেয়েকে তালাক দেন। পরদিন ৩ ফেব্রুয়ারি শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আবারো পরীক্ষা করেন এবং সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে রিপোর্ট পান ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরে মেয়ের পরিবার এসে তাকে ঐদিনই নিয়ে যায়।

এদিকে, স্মৃতিকে বাড়িতে আনার পর লোকজনের মধ্যে সামালোচনা শুরু হয় এবং বাহিরের লোকজন এসে ঘটনার বিষয়ে জানতে চায়। একপর্যায়ে বাড়ির লোকজন তাদেরকে বাড়ি ছেড়ে যেতে বলে। যে কারণে স্মৃতি ও তার পরিবারের সদস্যরা গত ৭ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে চলে যায়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন স্বপন মিয়াজী বলেন, এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। আমি লোকমুখে শুনেছি। মেয়ের বাবা দিনমজুর ও বিভিন্ন মাধ্যমে ধর্ষণের বিষয়ে যাদের নাম বলেছে তারা অনেকটা বখাটে ধরনের। কিন্তু ধর্ষণে জাড়িত আছে কি-না বলতে পারব না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!