ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চতুর্থ সন্তানটিও মেয়ে, জানার পর যে পৈশাচিক কাণ্ড করলেন স্বামী

শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:২৫, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
চতুর্থ সন্তানটিও মেয়ে, জানার পর যে পৈশাচিক কাণ্ড করলেন স্বামী
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বেশ কয়েক বছর আগে বিয়ে হয় আরিফুল ইসলাম মনসুর ও রেহানা আক্তারের। বিয়ের বছর খানেক পর তাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান। এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যেতে থাকে এরপর আরো দুটি কন্যাসন্তান জন্ম নিলে। প্রথম তিনটি সন্তান জন্ম নেয়ার পর রেহেনার ওপর শুরু হতে থাকে অত্যাচার। এর পরিমাণ প্রতিনিয়তই বাড়ছিল। ছেলে সন্তানের আশায় এ দম্পতি আবারো সন্তান নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একসময় গর্ভবতী হন রেহেনা।

গর্ভধারণের ৬ থেকে সাড়ে ৬ মাস পর আল্ট্রাসোনোগ্রাম করে মনসুর জানতে পারেন আবারো কন্যাসন্তানের বাবা হতে যাচ্ছেন তিনি। আর এতেই বেঁকে বসেন স্বামী। গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেন স্ত্রীকে। শেরপুরের একটি নার্সিং হোমে গর্ভপাতের জন্য স্ত্রী রেহানাকে নিয়ে যান তিনি। কোনো চিকিৎসক ছাড়াই একজন নার্সের সহায়তায় গর্ভপাত করানোর সময় মারা যান রেহেনা আক্তার।

রেহানার স্বজনদের দাবি, এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আরিফুল ইসলাম মনসুরকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহত রেহানার বাবা জয়নাল আবেদীন। পরে নার্সিংহোম মালিক বিপ্লব আহমেদ ও তার স্ত্রী নাজনীনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ।

Advertisement

স্থানীয়রা জানান, শেরপুর জেলা সদরের পাকুড়িয়া ইউনিয়নের তিলকান্দি গ্রামের জয়নাল আবেদীন তার মেয়ে রেহানা আক্তারকে বিয়ে দেন একই গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে আরিফুল ইসলাম মনসুরের সঙ্গে। বিয়ের পর ঐ দম্পতির তিন মেয়ে জন্মগ্রহণ করে। এরপর থেকে ছেলেসন্তানের জন্য স্ত্রী রেহানা আক্তারের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন স্বামী আরিফুল।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ছেলেসন্তানের আশায় আবারো সন্তান নেন রেহানা-আরিফুল দম্পতি। ৬ মাসের গর্ভবতী এ নারী সম্প্রতি আল্ট্রাসনোগ্রাম করে জানতে পারেন আবারো তার গর্ভে কন্যাসন্তান রয়েছে। এরপর থেকেই রেহানার ওপর আরিফুলের নির্যাতন শুরু হয়। তাকে চাপ প্রয়োগ করে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে জেলা শহরের মারিয়া নার্সিং হোমে নিয়ে ক্লিনিকের মালিক বিপ্লব আহমেদ তার স্ত্রী নার্স নাজনীন ও আসমানী নামের এক নারী মিলে রেহানার গর্ভপাত করান। এসময়ই তার মৃত্যু হয়।

নিহত রেহানার বাবা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমার মেয়েকে ছেলেসন্তানের জন্য অনেক নির্যাতন করেছে। পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়েরে হত্যা করেছে, আমি এর কঠিন বিচার চাই।’

চিকিৎসক ছাড়া এমন গর্ভপাত ঘটানো বিধিসম্মত নয় বলে জানান শেরপুর জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. খায়রুল কবির সুমন। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের পরই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।

শেরপুর সদর থানার ওসি এমদাদুল হক বলেন, এ ঘটনায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে ও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!