ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
বেইলি রোডে আগুন

‘কলমা পড়তে পড়তে কল কেটে যায়, পরে শুনি আমার পরান পাখি নাই’

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৩৩, ১ মার্চ ২০২৪
‘কলমা পড়তে পড়তে কল কেটে যায়, পরে শুনি আমার পরান পাখি নাই’
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আমার সোনারে (নিহত কামরুল হাবিব রকি) ফোন দিলে সে বলে, ‘আম্মা আমি মনে হয় আর বাঁচব না’। ‘তখন আমি আমার সোনারে কলমা পড়তে বলি, আমিও কলমা পড়ছি, আমার সোনাও আমার সঙ্গে কলমা, দোয়া-দরুদ পড়ছে। কলমা পড়তে পড়তে কল কেটে যায়, তারপর থেকে আর আমার সোনারে ফোন দিয়ে পাইনি, পরে শুনি আমার পরান পাখি আর নাই।’

খাটিয়ার পাশে বসে আহাজারি করতে করতে এভাবেই কামরুল হাবিব রকির মৃত্যুর শেষ সময়ের বর্ণনা দিচ্ছিলেন তার মা রিপা বেগম।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল ভবনে লাগা আগুনের ঘটনায় সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ‘কাচ্চি ভাই’ নামের খাবারের দোকানের ক্যাশিয়ার ছিল কামরুল হাবিব রকি। তিনি যশোর সদর উপজেলার ধোপাখোলা গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে।

Advertisement

শুক্রবার (১ মার্চ) সকালে তার গ্রামের বাড়িতে মরদেহ নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে রকিকে শেষবারের মতো দেখতে বাড়িতে ভিড় করে প্রতিবেশী এবং আত্মীয়-স্বজনরা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে গোটা পরিবেশ।

নিহতের স্বজনরা জানান, অগ্নিকাণ্ডে নিহত কামরুল হাবিব রকির পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তার বাবা কবির হোসেন পেশায় ইজিবাইকচালক। পার্শ্ববর্তী গাজির দরগাহ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে আড়াই মাস আগে ঢাকায় ‘কাচ্চি ভাই’ হোটেলে ক্যাশিয়ার পদে যোগদান করেন তিনি। অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়ায় রকি অক্সিজেন ফেল করে মারা যান বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।

নিহতের বাবা কবির হোসেন বলেন, ১৫ দিন আগে রকি বাড়িতে এসেছিল। ডিগ্রিতে ভর্তি হওয়ার জন্য ফরম তুলে আবার ঢাকায় ফিরে যায়। আমার ছেলেকে আমি এভাবে হারাব, আমি কোনোদিন ভাবতে পারিনি।

শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর রকির জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!