সরকারি হাসপাতালে নারী প্রতারক আটক, অতঃপর...
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নামে-বেনামে রোগীদের নাম দিয়ে টিকিট কেটে ওষুধ উত্তোলন করে বিক্রি এবং চিকিৎসকদের কক্ষে প্রবেশ করে আপত্তিকর আচরণ করায় নাজমা বেগম (৪৫) নামে এক নারী প্রতারককে আটক করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে হাসপাতালের ২০৭ নম্বর কক্ষ থেকে আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশে সোপর্দ করে।
নাজমা বেগম শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার বাসিন্দা। এক সময় তিনি আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি সদর মডেল থানা, সাব রেজিস্ট্রি অফিস ও সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে প্রতারণা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আনসার (পিসি) সুরুজ্জামান জামান জানান, হাসপাতালের ২১৫ নম্বর কক্ষে মেডিকেল অফিসার ডা. আনজুম আরা ফেন্সি ও ২০৭ নম্বর কক্ষে মেডিকেল অফিসার ডা. নূরুন্নাহার রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছিলেন। সে সময় রোগীদের সিরিয়াল ভঙ্গ করে প্রতারক নাজমা বেগম ডা. আনজুম আরা ফেন্সি ও ডা. নূরুন্নাহারের কক্ষে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট কয়েকটি ওষুধের নাম লিখে দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের চাপ প্রয়োগ করেন।
চিকিৎসক ওষুধের নাম লিখতে রাজি না হওয়ায় নাজমা বেগম চিকিৎসকের সঙ্গে অশালীন ও আপত্তিকর আচরণ করেন। পরে হাসপাতালের স্টাফ ও আনসার সদস্যরা এগিয়ে আসলে তাদেরকেও তিনি গালাগালি করেন। এরপর তাকে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ ও আনসারদের সহায়তায় আটক করা হয়। এ সময় ওই নারীর কাছ থেকে নাজমা, সালমা, সালেহাসহ বিভিন্ন নামে একাধিক হাসপাতালের টিকিট ও সরকারি ওষুধ পাওয়া যায়।
হাসপাতালের কর্মরত একাধিক কর্মচারী জানান, বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসকদের কক্ষে প্রবেশ করে কখনো নাজমা, আবার কখনো সালমাসহ বিভিন্ন পরিচয় দেন। হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন নাম ব্যবহার করে টিকিট সংগ্রহ করে সরকারি ওষুধ অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করেন। আবার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা রোগীদের কাছ থেকে কৌশলে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিকেলে আটক নাজমা বেগমকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপস্থিত করা হয়।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকারিয়া হোসেন জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতে নাজমা বেগম নামে ওই নারীকে উপস্থিত করা হয়। তার সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, তার মানসিক সমস্যা আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিডিও ফুটেজ দেখাতে পারেননি। যে কারণে কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলেছি, যদি পরবর্তীতে ওই নারী হাসপাতালের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা প্রদান করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।