এরশাদ উদ্দিন কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর রৌহা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ মিলস্কেল রি-প্রসেস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও জেসি অ্যাগ্রো ফার্মের চেয়ারম্যান। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য।
জানা যায়, তিন বছর আগে এরশাদ উদ্দিন নিজ এলাকায় জে সি অ্যাগ্রো ফার্ম নামে একটি খামার গড়ে তোলেন। তার খামারে দুগ্ধ ও মোটাতাজাকরণের তিন শতাধিক গরু রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ২০টি গরু দুধ দিচ্ছে। প্রতিদিন খামার থেকে ৭০-৭৫ লিটার দুধ উৎপাদিত হচ্ছে। সেই সব দুধ তিনি ১০ টাকা লিটার দরে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যে কেউ তার খামার থেকে নামমাত্র ১০ টাকা লিটার দরে সর্বোচ্চ এক লিটার দুধ কিনতে পারবেন।
.png)
বেলা ১১টার দিকে গিয়ে দেখা গেছে, তার খামারে এলাকার শতাধিক গরিব নারী-পুরুষ লাইন ধরেছেন। তারা ১০ টাকা আবার অনেকেই বিনামূল্যে দুধ নিচ্ছেন।
এ সময় নিয়ামতপুর ইউনিয়নের দেওপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান বলেন, রমজানে ১২০ টাকা লিটার করে দুধ কিনে খাওয়া আমাদের সম্ভব না। এরশাদ ভাই ১০ টাকা করে দুধ দিতেছে, এই দুধ দিয়েই আমরা সেহরি খাবো। আমাদের সব বিপদেই এরশাদ ভাই পাশে থাকেন।
বয়রা মধ্যপাড়া গ্রামের মার্জিয়া ও হাফসা খাতুন বলেন, আজ রমজানের শুরু দিন। এই প্রথম দিন থেকেই এরশাদ সাহেব আমাদকে ১০ টাকা দরে এক লিটার দুধ দিয়েছেন। প্রতিদিনই এক লিটার দুধ দেবেন ১০ টাকায়। আমরা অনেক খুশি। কারণ আমাদের মতো গরিব মানুষের ১২০ টাকা লিটার করে বাজার থেকে দুধ কিনে খাওয়া সম্ভব না।
মোহাম্মদ ইমরান বলেন, এরশাদ ভাইয়ের এ মানবিক উদ্যোগ আমাদের উপজেলায় প্রশংসিত হয়েছে। তিনি এ বছর নিয়ে তিন বছর ধরে রমজানে ১০ টাকা লিটার দুধ বিক্রি করে আসছেন। ১০ টাকা হলো নামমাত্র মূল্য। কারণ বিনামূল্যে দিলে অনেকেই লজ্জায় নিতে চাইবেন না। তাই এক লিটার দুধ মাত্র ১০ টাকা মূল্য রাখছেন। তিনি সবসময়ই এমন মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকেন।
খামারি এরশাদ উদ্দিন বলেন, রমজান আসলেই এলাকায় দুধের চাহিদা বেড়ে যায়। হাট-বাজারগুলোতে এক কেজি দুধ ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১২০ টাকা দামে নিম্নবিত্ত মানুষ ক্রয় করে খাওয়ার ক্ষমতা নেই। এ বিষয়টা চিন্তা করেই নামমাত্র ১০ টাকা মূল্যে ৭০ জনকে এক লিটার করে দুধ দিচ্ছি। অনেককে বিনামূল্যে দুধ দিয়েছি। আজ প্রথম রমজান থেকে এ কার্যক্রম শুরু, চলবে রমজানের শেষ দিন পর্যন্ত।
তিনি আরো বলেন, পুরো রমজানে আমার খামারে যা দুধ উৎপাদন হবে সবই ১০ টাকা করে বিক্রি করা হবে। সেই হিসেবে এ রমজানে ২ মেট্রিক টন দুধ ১০ টাকা লিটার দরে বিক্রি করা হবে। সে হিসেবে দৈনিক ৭০ থেকে ৭৫ জন ১০ টাকা দরে দুধ কিনতে পারবেন।