বৃহস্পতিবার সকালে মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের নিত্যগোপাল গোস্বামী স্মৃতি সংঘের উদ্যোগে বুধবার নড়াইলের লোহাগড়ায় বনভোজনে যায় কলাগাছিয়া গ্রামের লোকজন। বনভোজন থেকে ফেরার পথে বাসের মধ্যে মিল্টন হালদার (২৫) ও প্রকাশ বৈরাগীর (২৭) মধ্যে সিটে (আসনে) বসা নিয়ে তর্কাতর্কি হয়। পরবর্তীতে বাসের মধ্যেই নিত্যগোপাল গোস্বামী স্মৃতি সংঘের সভাপতি অংশুপতি ভক্ত উভয়কে মীমাংসা করে মিলিয়ে দেন। কিন্তু বুধবার রাতে (১৩ মার্চ) বাস থেকে বনভোজনের সব সদস্যরা নেমে বাড়ি আসার পথে মিল্টন হালদারের লোকজন প্রকাশ বৈরাগীর উপরে হামলা চালায়। বুধবার রাতে হামলার ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকালে মিল্টন হালদারের লোক অমল হালদারকে (২৫) একা পেয়ে প্রকাশ বৈরাগীর লোকজন হামলা করেন। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে বংশগত সংঘর্ষ হয়।
.png)
পরে খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২৫ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মর নিত্যগোপাল গোস্বামী স্মৃতি সংঘের সভাপতি অংশুপতি ভক্ত বলেন, পিকনিকের বাসে মিল্টন ও প্রকাশের মধ্যে ঝগড়া হলে আমিসহ কয়েকজন মিলে তাদের দুইজনকে মিলিয়ে দেই। তারপরও তারা বাস থেকে নেমে বাড়ি আসার পথে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি অনেক দুঃখজনক।
এ ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে রোগীদের দেখতে আসেন স্থানীয় কেন্দুয়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মো. রায়হান কবীর। তিনি বলেন, মর নিত্যগোপাল গোস্বামী স্মৃতি সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত বনভোজনের বাসে বসা নিয়ে দুটি ছেলের সঙ্গে দ্বন্দ্ব হয়। এর জেরে সংঘর্ষ হয়েছে। বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় পদেক্ষপ গ্রহণ করবে।
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কলাগাছিয়া গ্রামের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আমরা ২৫ জন রোগীকে ভর্তি করেছি এবং দুইজনকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছি। যারা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।