স্থানীয় ও রাঙ্গামাটি স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের গুইছড়ি মৌজার চান্দবিঘাট এলাকায় বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে জানুয়ারি মাস থেকে এই পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৪ জন। এদের মধ্যে প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে ১০ জানুয়ারি।
রাঙ্গামাটি স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন এবং চলতি মার্চে ১ জন মারা গেছেন।
.png)
ভূষণছড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার প্রীতিশংকর দেওয়ান ও গ্রাম প্রধান (কার্বারী) শীব রতন চাকমা বলেন, গ্রামে গত জানুয়ারি মাস থেকে এক অজ্ঞাত রোগ দেখা দেয়। অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত রোগীর প্রথমে শরীরে প্রচন্ড ব্যথা, জ্বর, এরপরে রক্ত বমি হয়। যেসব রোগী রক্ত বমি করেছেন তারা মারা গেছেন।
অজ্ঞাত রোগে মৃতরা হলেন, ঠেগা চান্দবী ঘাট গ্রামের বাসিন্দা পত্ত রঞ্জন চাকমা (২৫), একই গ্রামের বিমলেশ্বর চাকমা (৫৫), ডালিম কুমার চাকমা (৩৫), চিত্তি মোহন চাকমা (৬০) ও সোনি চাকমা (৮)।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঠেগা চান্দবী ঘাট গ্রামে ৮৬টি পাহাড়ি পরিবার রয়েছে। বর্তমানে ওই গ্রামবাসীর মনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঠেগা চান্দবী ঘাট গ্রামের আশেপাশে কোনো ক্লিনিক কিংবা চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র নেই। অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত কিছু সংখ্যক রোগী গ্রামের বৈদ্য ও কবিরাজের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে রাঙ্গামাটি জেলা সিভিল সার্জন ডা. নীহার রঞ্জন নন্দী বলেন, ডা. কামরুল হাসানের নেতৃত্বে ৬ সদস্যর একটি টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। এলাকাটি অনেক দুর্গম। হেঁটে তাদের ভূষণছড়ার ওই এলাকায় পৌঁছাতে হবে। মেডিকেল টিম আগামীকাল সন্ধ্যার দিকে ঠেগা চান্দবী ঘাট গ্রামে পৌঁছাবে।
অজ্ঞাত রোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর জানা যাবে। আমরা মেডিকেল টিমের সঙ্গে ওষুধ ও নমুনা সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাঠিয়েছি।