স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকের অবহেলায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঐ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এমনকি মৃত্যু ঘোষণার ৬ ঘণ্টা পরও ডেথ সার্টিফিকেট না দেওয়ায় লাশ বাড়ি নিতে পারছেন না তারা।
জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করে। এর আগে, সোমবার দুপুরে সিজার করাতে স্ত্রীকে নিয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে আসেন স্বামী মুন্না। এরপর অপারেশন করতে গিয়ে কাটা হয় রোগীর জরায়ু। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং সেই অবস্থায় হার্ট অ্যাটাক হলে পলি সাহা মারা যান।
.png)
নিহতের স্বামী মুন্না বলেন, সোমবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে আমার স্ত্রী পলিকে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। এরপর ডাক্তার আমাদের জানায়, রোগী এবং নবজাতক ভালো আছে। বিকেল ৫টার দিকে তাদের পোস্ট অপারেটিভ রুমে নিয়ে আসা হয়। তখন চিকিৎসকের কাছে সার্বিক অবস্থা জানতে চাইলে তারা জানায়, রোগী ভালো আছে, তবে কিছুটা ব্লিডিং হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যে চিকিৎসক সার্জারি করেছেন, তিনি এসে জানান রোগীর জন্য এক ব্যাগ রক্ত লাগবে। এরপর রাত ৯টার দিকে আমি আবার এসে রোগীর অবস্থা জানতে চাই, তারা জানায়, রোগীর ব্লিডিং এখন আগের চেয়ে কমেছে, এটা নিয়ে আপাতত কোনো শঙ্কা নেই। এভাবে রাত ১টা পর্যন্ত সময় গড়ায়। যখনই পলির সঙ্গে কথা বলি, সে বারবার বলতে থাকে তার ব্লিডিং হচ্ছে এবং অস্থির লাগছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসককে জানাই। এরপর রাতে আর আমাকে রোগীর সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি।
মুন্না বলেন, যে চিকিৎসক সার্জারি করেছিলেন তিনি আমাকে বলেন, রোগীর অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপ হচ্ছে, আইসিইউতে নিতে হবে। এর ১০ মিনিট পরই তিনি আবার আমাকে বলেন, রোগীর ব্লিডিংটা ইন্টারনাল কোথাও হচ্ছে কি না, সেটা দেখার জন্য আরেকটা সার্জারি করতে হবে। তখন অলরেডি আমার রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ। সে অক্সিজেন পাচ্ছিল না, হার্টবিট পাচ্ছিল না। প্রায় ৬০ থেকে ৭০ পার্সেন্ট কোমায় চলে গেছে। ঐ অবস্থায় তাকে আবার নতুন করে সার্জারি করা হয়।
মুন্নার অভিযোগ, চিকিৎসকরা জানান পলির রোগীর জরায়ু কাজ করছে না, এজন্য ব্লিডিং হচ্ছে। তাকে বাঁচাতে হলে জরায়ু কেটে ফেলতে হবে। এরপর আমি সম্মতি দিলে তার জরায়ু কেটে ফেলা হয়। এক পর্যায়ে মঙ্গলবার দুপুরে তারা আমাকে জানায়, পেশেন্টের সিভিয়ার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, আমাদের আর কিছুই করার নেই। সবশেষে বিকাল ৪টার দিকে আমার স্ত্রীকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার বিষয়টি অস্বীকার করে ইবনে সিনা হাসপাতালের কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, রোগীর অবস্থা এমন একটা পর্যায়ে ছিল যে তাকে বাঁচাতে হলে তখন জরায়ু কাটা ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না। সে সময় রোগীর স্বামীর মৌখিক এবং লিখিত সম্মতি নিয়ে জরায়ু কাটা হয়। মূলত রোগীর ব্লিডিং বন্ধ করার জন্য চিকিৎসকদের আর কিছুই করণীয় ছিল না। সুতরাং এখানে অপারেশন করতে গিয়ে জরায়ু কেটে ফেলা হয়েছে; এটা পুরোপুরি ভুল অভিযোগ।
তিনি আরো বলেন, রোগীর মৃত্যুর পর তার স্বামী-স্বজনসহ চিকিৎসকদের নিয়ে বসা হয়েছে। ওনাদের সব বিষয় সুন্দর করে বোঝানো হয়েছে। এমন একটা ক্রিটিক্যাল পরিস্থিতিতে রোগীর মৃত্যু হতেই পারে। কোনো চিকিৎসক কখনোই চান না, তার হাতে একটা রোগীর মৃত্যু হোক। এটা নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।
ইবনে সিনা হাসপাতালের এ কর্মকর্তা বলেন, রোগীর পরিবার চাইলে এসে লাশ নিয়ে যেতে পারেন। এখানে নিয়মমাফিক একটি বিল করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কেউ আমাদের কাছে আসেনি। বিল প্রদান সংক্রান্ত কোনো সমস্যাও যদি হয়, তাহলে আমরা মনে করি এটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।