সরেজমিন দেখা গেছে, শহরের বনরূপা বাজারের সমতাঘাটে কাপ্তাই হ্রদের তীরে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে চাষিরা বিভিন্ন উপজেলা থেকে তরমুজ আনছেন বিক্রি করার জন্য। তবে তাদের কপালে দেখা গেছে দুশ্চিন্তার ভাজ।
তারা জানান, এবার বীজ জ্বলে যাওয়ায় এবং বিভিন্ন রোগ-বালাইয়ের কারণে তরমুজের ফলন ভালো হয়নি।
.png)
রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা তরমুজ চাষি আবু সৈয়দ জানান, এক একর জমিতে ৩ লাখ টাকা খরচ করে তরমুজের চাষ করেছেন। তবে এবার তরমুজের বীজ ভালো না হওয়ায় তার জমিতে ফলন খুবই কম হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ পর্যন্ত তিনি তরমুজের ক্ষেত থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো তরমুজ বাজারে বিক্রি করেছেন। এতে তার লোকসান হবে আড়াই লাখ টাকার মতো। যার কারণে এবার স্থানীয় বাজারগুলোতে চড়া দামে তরমুজ বিক্রি করা হচ্ছে।
লংগদু উপজেলার মাইনী এলাকার বাসিন্দা তরমুজ চাষি পঙ্কজ চাকমা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজের ফলন কম হয়েছে। তরমুজের ক্ষেতে বিভিন্ন রোগ-বালাই দেখা দেওয়ায় বেশি ভাগ তরমুজের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এবার যা ফলন হয়েছে তা থেকে তাদের খরচ হওয়া অর্থ পুষিয়ে নিতে পারবেন না।
রাঙ্গামাটি শহরের বনরূপা বাজারের সমতাঘাট এলাকার পাইকারি তরমুজ ব্যবসায়ী দীপংকর চাকমা জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর তরমুজের দাম বেশি। কারণ এ বছর তরমুজের বীজ ভালো না হওয়ায় এবং বিভিন্ন রোগে তরমুজের চারা নষ্ট হওয়ায় ফলন ভালো হয়নি।
তিনি আরো জানান, বেশি দাম হওয়ায় তাদের তরমুজ কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। ফলে ক্রেতাদের কাছেও চড়া দামে তরমুজ বিক্রি করতে হয়। ছোট তরমুজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং মাঝারি ও বড় তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।
এদিকে, বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর রাঙ্গামাটিতে উৎপাদিত তরমুজ পাইকারি দরে ক্রয় করে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে তারা বেশ লাভবান হতেন। তবে এবার ফলন কম হওয়ায় গত বছরের চেয়ে এ বছর রাঙ্গামাটির স্থানীয় চাষিদের কাছ থেকে বেশি দামে তরমুজ কিনতে হচ্ছে। ফলে এ বছর তারা তরমুজ বিক্রি করে সুবিধা করতে পারবেন না।
রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, তরমুজ মূলত হাইব্রিড ব্রিজ। হাইব্রিড বীজের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, বীজ যদি গুণগত সঠিক মানের না হয়, তাহলে রোপণ করলেও তরমুজ উৎপাদন করা সম্ভব না। আবার বিভিন্ন রোগের আক্রমণও হতে পারে। এই বীজগুলো কৃষিবিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেই। এটি চাষিরা বাইরের বিভিন্ন কোম্পানি থেকে আমদানি করে থাকেন।
তিনি জানান, এবার লংগদু হর্টিকালচার সেন্টারেও কিছু তরমুজের চাষ করা হয়েছিল, সেখানেও ব্যাপকভাবে গোড়া পচা রোগে বীজ নষ্ট হয়েছে। এটির দুটি কারণ হতে পারে, প্রথমত ছত্রাক আক্রমণ করেছে, দ্বিতীয়ত বীজটি যতটুকু শক্ত থাকার কথা, ততটুকু শক্ত না হওয়ার কারণে বীজটি পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে তরমুজের ফলন কম হয়েছে।
তিনি আরো জানান, গত বছর ২৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। তবে এ বছর তরমুজের চাষ হয়েছে ২৪৮ হেক্টর জমিতে। কিন্তু গত বছরের তুলনায়, এ বছর ফলন ভালো হয়নি এবং জেলার অনেক জায়গায় গোড়া পচা রোগে তরমুজের বীজ নষ্ট হয়ে গেছে।
ভালো ফলন পেতে গেলে তরমুজ ক্ষেতে প্রচুর পরিমাণ জৈব সার ব্যবহার করতে হবে এবং সময় মতো সেচ দিতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে। তবে চাষিরা না জানার কারণে এগুলো করেন না। বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে হলে বা ভালো মুনাফা অর্জন করতে হলে এগুলো জানতে হবে বলে জানান তিনি।