বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক মোজাম্মেল হক।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, ৬ বছর আগে চট্টগ্রাম নগরীতে ইয়াবাসহ গ্রেফতার হওয়া এই যুবক তখন পরিচয় গোপন করে এক বাঙালি যুবকের নাম-পরিচয় দিয়েছিলেন। জামিনে গিয়ে পালানোর পর আদালতের পরোয়ানা পেয়ে পুলিশ জানতে পারে, যাকে ধরতে পরোয়ানা- তিনি আসল ব্যক্তি নন, আগে কখনো গ্রেফতারও হননি তিনি। দুই বছরের বেশি সময় তদন্ত করে উখিয়ার বালুখালী এলাকার ১২ নম্বর ক্যাম্প থেকে আবুল হোসেন নামে রোহিঙ্গা যুবককে গ্রেফতার করা হয়।
.png)
পুলিশ আরো জানায়, উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিবন্ধিত বাসিন্দা আবুল হোসেন। কিন্তু তার আগে থেকেই থাকতেন চকরিয়ার জঙ্গল খুটাখালী এলাকায়। ৬ বছর আগে চট্টগ্রাম নগরীতে ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়ে নিজ পরিচয় গোপন রেখে নাম রাখেন সালাহ উদ্দিন।
এদিকে, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর সালাহ উদ্দিন আগে কখনো গ্রেফতার হয়নি বলে আদালতকে জানান। পরে আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্ত করতে পিবিআইকে আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, চকরিয়ার জঙ্গল খুটাখালী এলাকার বাসিন্দা সালাহ উদ্দিন পেশায় কৃষক। তার প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বাড়ির কাছে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন রোহিঙ্গা যুবক আবুল হোসেন। এ কারণে তাদের পরস্পরের পরিচিত ছিল।
২০১৭ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকায় এক হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন আবুল হোসেন। পূর্ব পরিচয়ের কারণে রোহিঙ্গা যুবক আবুল হোসেন নিজ নাম-পরিচয় গোপন রেখে সালাহ উদ্দিনের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেন।
আদালত থেকে জামিন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর চান্দগাঁও থানা পুলিশ আসামিকে পলাতক দেখিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর সালাহ উদ্দিনের বাড়িতে পুলিশ গেলে তিনি বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও থানাকে জানান।
পরিদর্শক মোজাম্মেল জানান, চট্টগ্রাম মহানগর চতুর্থ দায়রা জজ আদালতে সালাহ উদ্দিন বলেছেন, তার নামে যে পরোয়ানা জারি হয়েছে- সেই সালাহ উদ্দিন তিনি নন। আগে কখনো তিনি গ্রেফতারও হননি। আদালত সালাহ উদ্দিনের আবেদন আমলে নিয়ে ২০২২ সালের ৩০ জানুয়ারি মামলাটি পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।
তিনি আরো বলেন, কারাগারে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হওয়ার হাজতিদের ছবি এবং গ্রেফতারের পর ছবি মিলিয়ে দেখা যায়, পরোয়ানা জারি হওয়া সালাহ উদ্দিন এবং গ্রেফতার হওয়া সালাহ উদ্দিনের ছবির ভিন্নতা আছে। টানা তদন্তের পর বুধবার (২৭ মার্চ) উখিয়া বালুখালী ১২ নম্বর ক্যাম্প থেকে আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।