দুই মাসে ১৩ প্রসূতির মৃত্যু, নেপথ্যে কারণ কী?
সিজারের (অস্ত্রোপচার) মাধ্যমে সন্তান জন্মের পর একের পর এক মৃত্যু হচ্ছে প্রসূতি মায়ের। গত দুই মাসে এভাবে মারা গেছেন ১৩ জন। এমনটিই ঘটেছে চট্টগ্রামের কয়েকটি হাসপাতালে। সিজারের সময় ব্যবহৃত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে হতে পারে এমন মৃত্যু- ধারণা অনেক চিকিৎসকের। তবে, অনেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ- চিকিৎসকের অবহেলার কারণে মৃত্যু হচ্ছে। এরইমধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে অধিদফতর। মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছেন কমিটির সদস্যরা।
জানা গেছে, গত দুই মাসে চট্টগ্রামের তিনটি হাসপাতালে সিজারের পর মারা গেছেন ১৩ জন প্রসূতি। এর মধ্যে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে সাতজন, ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারজন এবং সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত মেমন মাতৃসদন হাসপাতালে দু’জন মারা যান। মেমন মাতৃসদন হাসপাতালের দু’জনকে সিজারের পর অন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়।
সিজারের পর মৃত্যুর কারণ নিয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সেখানে বলা হয়েছে- সিজার পরবর্তী চার প্রসূতির মৃত্যু হয় হাসপাতালটিতে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকেই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন কমিটির সদস্যরা।
.png)
এদিকে, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে প্রসূতি মায়েদের মৃত্যু হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে সিজারে ব্যবহৃত ওষুধগুলো সংগ্রহ করেছে চট্টগ্রামের ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর।
বেশিরভাগের কিডনি বিকল, কারো কারো হার্টের সমস্যা
ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ জন প্রসূতি মায়ের সিজার হয়। আগে এ ধরনের জটিলতা হতো না। গত জানুয়ারি থেকে আমরা হঠাৎ লক্ষ্য করছি- কোনো কোনো মায়ের অপারেশনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শরীরে নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, তাদের বেশিরভাগেরই কমন সমস্যা ছিল কিডনি বিকল হয়ে যাওয়া। আর কারো কারো হার্টের সমস্যা দেখা যাচ্ছিল। কোনো চিকিৎসাতেই তাদের সুস্থ করা যাচ্ছিল না। তাদের এমন সব জটিলতা হচ্ছিল যে, শেষ পর্যন্ত আইসিইউ সাপোর্ট দরকার পড়ছিল। এ কারণে আমরা তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই। একইসঙ্গে বিষয়টি সিভিল সার্জনকে অবহিত করি।
একই ওষুধ সমস্যা হচ্ছে না অন্য সার্জারিতে
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মৃত্যুর বিষয়ে একমত নন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী। তিনি বলেন, সিজারের সময় যেসব ওষুধ ব্যবহার করা হয়, সেগুলো অন্যান্য সার্জারির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। একই ওষুধ ব্যবহার করে জেনারেল সার্জারি কিংবা অর্থোপেডিক্স সার্জারির ক্ষেত্রে তো কারো মৃত্যু হচ্ছে না।
‘তাহলে সিজারে প্রসূতি মায়েদের মৃত্যুর কারণ কী?’- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে সংক্রমণের কারণে আমাদের শরীরে নানা পরিবর্তন হয়েছে। সেটির কারণে সিজারে প্রসূতি নারীরা মারা যাচ্ছে কিনা তা তদন্ত করে দেখছি। কারণ তারা সিজার করালে মারা যাচ্ছে, সাধারণভাবে প্রসব করলে সমস্যা হচ্ছে না।
তদন্ত শেষে জানা যাবে কারণ
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. সাহেনা আক্তার বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা কাজ করছেন। আমরা একটি বৈঠক করেছি। সেখানে সদস্যদের কিছু কাজ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) কমিটির আরেকটি বৈঠক আছে। সেখানে এসব আবার পর্যালোচনা করা হবে।