পর্যটন নগরীর প্রধান যানবাহন ইজিবাইক (টমটম) নিয়ে চলছে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। পৌরশহরে চলাচল করছে ধারণ ক্ষমতার ১০ গুণেরও বেশি ইজিবাইক। পৌরশহরে এই অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচলের ধারণ ক্ষমতা এক হাজার থেকে ১২০০। কিন্তু সড়কে চলাচল করছে ১০ হাজারেরও বেশি। তাই ধারণ ক্ষমতার ১০ গুণ বেশি। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও রোহিঙ্গারা অবাধে সড়কে ইজিবাইক চালালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। তাই দুর্ঘটনা ও হয়রানি বাড়ছে দিন দিন।
ইজিবাইকের চাপে পর্যটন নগরীর জনজীবন ক্রমেই হয়ে উঠছে দুর্বিসহ। শুধুমাত্র ইজিবাইকের চাপেই যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে কক্সবাজার। তাছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও রোহিঙ্গারাই চালাচ্ছে ইজিবাইক।
.png)
সূত্র জানিয়েছে, যাদের নেই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স, নেই কোনো গাড়ির রেজিস্ট্রেশন। নৈরাজ্য চলছে ইজিবাইক লাইসেন্স নিয়েও। অসাধুরা অদক্ষ চালকদের একটি লাইসেন্স ভাড়া দিয়ে প্রতিমাসে হাতিয়ে নিচ্ছে ৬ হাজার টাকা করে। অন্যদিকে, এক ব্যক্তির নামেই ইস্যু রয়েছে অনেকগুলো লাইসেন্স।
এছাড়া একটির লাইসেন্সের বিপরীতে অবাধে চলছে আরো কয়েকটি ইজিবাইক। পৌরসভা কর্তৃক ইস্যুকৃত নম্বর প্লেটগুলো ব্যবহার হচ্ছে একাধিক ইজিবাইকে।
এভাবেই দিনদিন সড়কে ইজিবাইকের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। অদক্ষ চালকরা নিয়ম-নীতি না মেনে মাসিক ও দৈনিক ভাড়ায় চালাচ্ছে ইজিবাইক। তাই সড়কে বেড়ে গেছে দুর্ঘটনা, জনদুর্ভোগ ও পর্যটক হয়রানি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পর্যটন নগরীর প্রধান যানবাহন টমটমের নৈরাজ্য রোধে কক্সবাজার পৌরসভা ও ট্রাফিক বিভাগের সমন্বয়হীনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও পর্যটনবান্ধব নগরী গড়ে তুলতে ইজিবাইকের (টমটম) নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।
এদিকে, ৩ হাজার লাইসেন্সের বিপরীতে ১০ হাজারেরও বেশি ইজিবাইক চলাচল করছে বলে জানিয়েছেন খোদ কক্সবাজার পৌর মেয়র। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও রোহিঙ্গা চালক এবং ধারণ ক্ষমতার মধ্যে ইজিবাইক চলাচলে পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন মেয়র মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী।
অপরদিকে, যানজটমুক্ত পর্যটন নগরী গড়তে ইজিবাইকের এই নৈরাজ্য অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন কক্সবাজার সচেতন পৌরবাসী।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান জানান, গণপরিবহন চালুর বিষয়টি ভেবে দেখা হচ্ছে।