পুলিশের দেওয়া তথ্য বলছে, গত এক বছরে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১৮ জনকে অপহরণ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬০ জন স্থানীয় বাসিন্দা। বাকিরা রোহিঙ্গা নাগরিক।
অপহরণের পরিবারের তথ্য বলছে, অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৫১ জন মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছে। তবে ৯ মার্চ হ্নীলার পূর্ব পানখালী এলাকা থেকে অপহরণ হওয়া মাদরাসাছাত্র ছোয়াদ বিন আব্দুল্লাহকে ২১ দিন পর কুমিল্লা লালমাই এলাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ অপহরণ ঘটনায় ব্যবহৃত অটোরিকশার চালক ও সংঘবদ্ধ চক্রের নারী সদস্যসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। পাঁচজনই রোহিঙ্গা।
.png)
সবশেষ গত ২২ মার্চ টেকনাফের পশ্চিম পানখালি পাহাড়ি এলাকা সংলগ্ন সবজিক্ষেত থেকে পাঁচজন কৃষক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে অপহরণের শিকার হন। পরে তারা মুক্তিপণে ছাড়া পান।
সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অপহরণ, খুন, চাঁদাবাজি, প্রত্যাবাসন বিরোধী কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করে অর্ধশতাধিক সশস্ত্র গ্রুপ। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে প্রায়ই তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে গোলাগুলি ও খুনোখুনির মতো ঘটনা ঘটে। গত তিন মাসে ৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে চলিত মাসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গনি বলেন, পাহাড়কেন্দ্রিক অপহরণের সঙ্গে স্থানীয় অপরাধী, রোহিঙ্গা এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও জড়িত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবার অপহৃতদের পরিবার পুলিশকে সহযোগিতা করছে না। ক্ষেত্রবিশেষে তারা তথ্য গোপন করছে। অপহরণের ঘটনা পুলিশকে না জানানোর চেষ্টা করছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ অপহরণের উৎস সন্ধানের চেষ্টা করছে।
এ ব্যাপারে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, ক্যাম্পে এপিবিএন পুলিশের তিনটি ইউনিটই সন্ত্রাসী, অস্ত্রবাজি ও মাদক ব্যবসা বন্ধে কাজ করছে। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির সমাবেশসহ নানা ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।