শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঠের হাতলসহ ধারালো দা জব্দ করা হয়। মূলত কৃষি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে ক্যাম্পের ১১৬নং ক্লাস্টারের সামনের সবজি বাগান থেকে ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৭৮নং ক্লাস্টারের মৃত আব্দুল আলীর ছেলে মো. সুলতানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
.png)
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮২নং ক্লাস্টারের বাসিন্দা মৃত আব্দুস সালামের ছেলে মো. জলিল (৪৯), ৬৪নং ক্লাস্টারের বাসিন্দা মৃত আব্দুল আলীর ছেলে মোহাম্মদ হোছন (৫৬) ও মোহাম্মদ হোছনের ছেলে ওসমান গনি (২৪)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মো. সুলতান সবজি চাষের জন্য ১১৬নং ক্লাস্টারে আসেন। তার ছেলে নুরুল আমিন নাস্তা আনলে তিনি খেয়ে কাজ শুরু করেন। এরপর নুরুল তার বাবাকে রেখে ৭৮নং ক্লাস্টারে চলে যায়। পরে দুপুরে ভাত নিয়ে এসে তার বাবাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এরপর আশপাশের লোকজন নিয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ১১৬নং ক্লাস্টারের ভেতর তার বাবার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পায়। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, সবজি ও মাছ চাষকে কেন্দ্র করে মো. জলিল, ওসমান গনি ও মোহাম্মদ হোছনের সঙ্গে টাকার লেনদেন হয়। সেখান থেকেই বিরোধের সৃষ্টি হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনায় আসামি জলিল জানান, তিনি সুলতানকে ডেকে ১২নং কক্ষে নিয়ে যান। মোহাম্মদ হোছন সুলতানের পা ধরে রাখেন আর তিনি মাথা ধরে রাখেন। এরপর ওসমান গনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুলতানের গলা কাটেন। সুলতান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ওসমান গনি ও মোহাম্মদ হোছন তাকে টেনে-হিঁচড়ে রুমের এক কোণে নিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে ওসমান গনি তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে তলপেটের নিচে ডান ও বাম পাশে কুপিয়ে জখম করেন। মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা স্থান ত্যাগ করেন।
ভাসানচর থানার ওসি কাওসার আলম ভূঁইয়া বলেন, বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। জলিল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা আসামিদের আদালতে সোপর্দ করব। পাশাপাশি ওসমান গনি ও মোহাম্মদ হোছনের ৫ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করব। অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।