জানা গেছে, ১৯৮৭-৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের গোবিন্দনগর এলাকায় ১৫ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরীর যাত্রা শুরু হয়। সেখানে ৫৩টি শিল্প ইউনিটের বিপরীতে ১০৫টি প্লট বরাদ্দের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে বিসিক। ২০১৫ সালের আগ পর্যন্ত শিল্প ইউনিটের প্লটগুলো এলেমেলো ও ফাঁকা থাকলেও এখন বরাদ্দ হয়েছে সব প্লটের। তবে বরাদ্দ হলেও কয়েকটি প্লটে কোনো ধরনের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়নি। বর্তমানে সেখান থেকে প্রায় দুই হাজার শ্রমিকের জীবিকা নির্বাহ হয়ে থাকে।
সরেজমিন দেখা যায়, শিল্প নগরীর প্লটের ভেতরে যাতায়াতের রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা। আর ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনা যেন রোগ তৈরির কারখানায় রূপ নিয়েছে।
.png)
অন্যদিক লাইটিং ব্যবস্থা না থাকার ফলে রাত হলে ভয়ঙ্কর রাস্তায় পরিণত হয় ছোট অলি-গলি। এ ছাড়াও বেশির ভাগ প্লটে গড়ে তোলা হয়েছে চিড়া, মুড়ি, বেকারি ও প্লাস্টিকের কারখানা। অধিকাংশ কারখানা সাময়িক চলে আবার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে আসা বিসিক শিল্প নগরী থেকে মুখ ফেরানোর পথে অনেকে। নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা পাওয়ার বদৌলতে স্থায়ী সমস্যাও সমাধান করা হয় না৷
বেকারি মালিক ওমর ফারুক বলেন, এখানে তেমন বড় কোনো উদ্যোক্তার প্লট নেই। ছোটখাটো উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। তবে রাস্তার বেহাল দশার কারণে গাড়ি ভালোভাবে যাতায়াত করাতে পারি না। আর ড্রেনেজ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় খাবার তৈরির কাজে অনেক খারাপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সন্ধ্যা নামলে ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়ে যায় চারপাশ। কোনো ধরনের আলোর ব্যবস্থা নেই। যদি কর্তৃপক্ষ সুনজর দেয় তবে এসব পরিবর্তন হলে আমাদের কাজের গতি বাড়াতে পারবো।
ঠাকুরগাঁও চেম্বার অব কর্মাসের সাবেক পরিচালক মামুনুর রশিদ বলেন, প্রতিষ্ঠার দুই যুগ পেরিয়ে গেছে। তবু নানা সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে বিসিক শিল্পনগরী। খানাখন্দে ভরা সড়ক, পানি সংকট, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে ক্ষুব্ধ শিল্প উদ্যোক্তারা। এ সব সমস্যার সমাধান না হলে ভালো কিছু করা অসম্ভব। তা না হলে দিনদিন সংকুচিত হবে পাশাপাশি শিল্পনগরীর ঘুরে দাঁড়ানোর পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে।
ঠাকুরগাঁও বিসিক শিল্প নগরীর উপ-ব্যবস্থাপক নুরুল হক বলেন, আমাদের সবগুলো প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যারা কাজ শুরু করেননি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করবেন৷ তেমন বড় ধরনের কোনো উদ্যোক্তা না থাকার ফলে বড় কোনো ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেনি। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি বড় ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার। রাস্তা-ঘাট আর ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমস্যা রয়েছে। আমরা কিছু কাজ করার চেষ্টা করেছি। ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি কয়েক দফায় অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।