স্বনামধন্য সরকারি এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে বর্তমানে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। এতে করে সরকারি এই হাসপাতালে সেবা নিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকেই। জরুরি সেবা ছাড়া বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ছুটছেন রোগীরা। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
তবে রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে সেবার মান আগের যেকোনো সময়ের চাইতে কমেছে। হাসপাতালে নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না ওষুধ। পরীক্ষার রিপোর্টেও মাঝেমধ্যে আসে ভুল। অনেক চিকিৎসক তাদের পছন্দের প্রাইভেট হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন রোগীদের। চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
.png)
সরেজমিন হাসপাতালে দেখা যায়, প্রচুর রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বেডে জায়গা না পেয়ে মেঝে, বারান্দা কিংবা সিঁড়ির নিচে শুয়ে-বসে আছেন। অনেক বারান্দায় ফ্যান না থাকায় গরমের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।
এ সময় কথা হয় ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দায় শিশুকে নিয়ে ভর্তি হওয়া ময়মনসিংহ সদরের শম্ভুগঞ্জ এলাকার মুর্শিদা খাতুনের সঙ্গে।
তিনি বলেন, শিশুর পেটে প্রচণ্ড ব্যথা। তাই কয়েকদিন আগে ভর্তি হয়েছি। আগের যেকোনো সময়ের চাইতে হাসপাতালে এখন চিকিৎসা সেবার মান কমেছে। দুপুরে শিশুর ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসককে ডাকাডাকি করলেও আসেননি। নার্সকে বললে তারাও আসেননি। পরে শিশুকে কোলে করে নার্সের কাছে নিয়ে গেলে বলা হয়, কিছুক্ষণের মধ্যে ব্যথা কমবে।
গত মাসের ২৮ এপ্রিল ১৯ মাসের শিশু ছেলেকে নিয়ে আউটডোরে আসেন নগরীর দিঘারকান্দা এলাকার মীম আক্তার। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমার বাচ্চাটির মাথা, মুখে ও গলায় প্রচুর পরিমাণে ফুসকুড়ি হয়েছে। হাসপাতালের আউটডোরে ১০টাকা টিকিট কেটে চিকিৎসকের কাছে যাই। এ সময় একজন নারী চিকিৎসক তার মোবাইল টিপাটিপি করছে তো করছেই। আমি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বাচ্চা সজোরে কান্নাকাটি করতে থাকলে চিকিৎসককে বলি, ম্যাডাম আমার বাচ্চাকে একটু দেখেন।
এতেই ঐ চিকিৎসক রাগান্বিত হয়ে বলেন,বাচ্চা কান্নাকাটি করছে, তাহলে নিয়ে আসছেন কেন? আপনি ভাবছেন আমি অহেতুক মোবাইল টিপাটিপি করছি? এত তাড়াহুড়ো নিয়ে হাসপাতালে আসেন কেন? এই বলে বাচ্চাকে ভালোভাবে না দেখেই ওষুধ লিখে দেন। তবে এক টাকার ওষুধও হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে পাওয়া যায়নি।
হার্টের সমস্যা নিয়ে কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন নগরীর বাসিন্দা সাইরিন খাতুন। তার ছেলে মোশাররফ বলেন, অপারেশনের পর এই বিভাগে রোগীর কক্ষে রোগীর স্বজনদের একজনের বেশি প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। তবে এখানে থাকা স্টাফকে কিছু টাকা দিলেই রোগীর কয়েকজন স্বজন এক সঙ্গে আসা-যাওয়া করতে পারে। আবার রোগী ছুটির পর স্টাফরা বলেন, আমাদের কিছু টাকা দিয়ে খুশি করে যান। চিকিৎসকরা এসব জানলেও কিছুই বলে না।
জেলার হালুয়াঘাটের বাসিন্দা মোশারফ হোসেন বলেন, হার্টের সমস্যা নিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি হয়েছি। বিভিন্ন পরীক্ষার সঙ্গে ডাক্তার বলেছেন ইকো করাতে। কিন্তু তারা পরীক্ষার জন্য সিরিয়াল দিয়েছেন দুই মাস পর। বাধ্য হয়ে বাইরে অন্য ক্লিনিকে করিয়েছি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, রোগী বেশি হওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সরা চিকিৎসা সেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছেন।
তবে কেউ রোগী কিংবা তাদের স্বজনদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে তা আমার জানা নেই। কোনো স্টাফ রোগীদের স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার প্রমাণ আমরা পেলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হবে। কার্ডিওলজি বিভাগের দুর্ভোগ নিরসনের জন্য ইকো মেশিন বাড়ানো হবে।