বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর মোহনায় বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পতেঙ্গার বানৌজা ঈসা খাঁ হাসপাতালে (নেভি হাসপাতাল) আসিম জাওয়াদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নিহত আসিম জাওয়াদ মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মো. আমান উল্লাহ একজন চিকিৎসক ও মা নীলুফা আক্তার খানম অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা ছিলেন।
.png)
ছেলেকে হারিয়ে জাওয়াদের মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। ক্ষণেক্ষণেই বলে উঠছেন, প্রতিদিন আমার ছেলে আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করে মা খেয়েছো কিনা? আজ তো আমাকে জিজ্ঞেস করলো না মা তুমি খেয়েছো কিনা?
নিহত জাওয়াদের খালা পারভীন সুলতানা বলেন, আসিম জাওয়াদ ছিল আমার মেজো বোনের একমাত্র ছেলে। তাকে হারিয়ে নিঃশেষ হয়ে গেছেন। বাবা-মার কাছে সন্তানের লাশ কতোটা ভারী তা শুধু সে মা-বাবাই জানে যার সন্তান হারিয়েছে।
জাওয়াদের খালাত ভাই মশিউর রহমান শিমুল জানান, আমাদের কাজিনদের মধ্যে আসিম জাওয়াদ ছিল সবচেয়ে মেধাবী ও ভদ্র। ছোটবেলায় তার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগদান করার। জাওয়াদ ২০১০ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগদান করেন। আজকের ঘটনা শোনার পরই আমার খালু চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে খালা এখন পাগলপ্রায়। তাকে হারিয়ে পরিবার শোক কাটিয়ে উঠতে পারবে কিনা জানা নেই।
আসিম জাওয়াদ চাকরিকালীন সময়ে বিমান বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি ও ইউনিটে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি পেশাদারি দক্ষতা ও সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘মফিজ ট্রফি’, ‘বিমান বাহিনী প্রধান ট্রফি’ ও বিমান বাহিনী প্রধানের প্রশংসাপত্র লাভ করেন। এছাড়াও ভারতীয় বিমান বাহিনীতে কোর্সে অংশগ্রহণ করে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ চীফ অফ এয়ার স্টাফস ট্রফি ফর বেস্ট বেস্ট ইন ফ্লায়িং (ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সেস) অর্জন করেন। চাকরিকালীন সময়ে তিনি দেশ-বিদেশে পেশাগত বিভিন্ন কোর্সে অংশগ্রহণ করে সফলতার সঙ্গে তা সম্পন্ন করেন।
নিহত স্কোয়াড্রন লিডার মুহাম্মদ আসিম জাওয়াদের মরদেহ আগামীকাল মানিকগঞ্জে আনা হবে। তারপর জানাজা শেষে তাকে মানিকগঞ্জ পৌরসভার সেওতা কবরস্থানে দাফন করা হবে।