ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দ্বীপের মতো ২১ বছর ধরে দাঁড়িয়ে অর্ধকোটি টাকার সেতু

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:১৪, ১২ মে ২০২৪
দ্বীপের মতো ২১ বছর ধরে দাঁড়িয়ে অর্ধকোটি টাকার সেতু
এভাবেই দ্বীপের মতো ২১ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে অর্ধকোটি টাকার সেতু। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পাবনার চাটমোহরে সমাজ এলাকার ঝিটকি কাটা নদীর উপর ২১ বছর ধরে অকেজো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু। দ্বীপের মতো দাঁড়িয়ে থাকা সেতুটির দু’পাশের মাটি ধসে যাওয়ার কারণে জনসাধারণের কোনো কাজেই আসছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাবনার চাটমোহরের নিমাইচড়া ইউনিয়নের সমাজ, বলচপুর, মিয়াপাড়া গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গুড়া উপজেলার গদাইরূপসি, বানিয়াবহু, সাতবাড়িয়া, ময়দানদিঘীসহ আরো কিছু গ্রামের মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে ২০০১ সেতুটি নির্মিত হয়। প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে ৭০ ফিট দীর্ঘ এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, নির্মাণের কিছুদিন পরেই সেতুর দুই পাশের মাটি বন্যার পানির স্রোতে ভেসে যায়। এরপরে আর কখনো সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট করা হয়নি। সংযোগ সড়ক সংস্কার না করায় ২১ বছর ধরে এ এলাকার মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনে তাদের অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। সেতুর সুবিধা না পাওয়ায় এলাকার মানুষকে অন্য রাস্তা হয়ে অনেকটা পথ ঘুরে আসা যাওয়া করতে হচ্ছে।

Advertisement

ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমার জানামতে ২০০১ সালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের কিছু দিন পর দু’পাশের মাটি সরে যায়। দীর্ঘ বছর পেরিয়ে গেলেও দু’পাশে মাটি না ফেলায় সেতুটি এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না। সেতুর দু’পাশ মাটি ভরাট করাসহ পাশের রাস্তাটি উঁচু করতে তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সমাজ গ্রামের জাহিদ হাসান বলেন, প্রায় ২১ বছর আগে তৈরি করা হয়েছিল কংক্রিটের এ সেতুটি। তবে এটি কখনোই ব্যবহার করা হয়নি। কারণ এই সেতুর দু’পাশে সংযোগ সড়ক নেই। সেতুটি নদীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে দ্বীপের মতো।

এ ব্যাপারে নিমাইচড়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরজাহান বেগম মুক্তি বলেন, আমি সম্প্রতি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে সেতুর দু’পাশ মাটি দিয়ে ভরাট করা ও সংযোগ সড়ক উঁচু করার চেষ্টা করবো। সমস্যাটি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবো।

চাটমোহর উপজেলা প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, আমি কয়েক মাস হলো চাটমোহরে যোগদান করেছি। আমার জানামতে সেতুটি এলজিইডি করেনি। এলজিইডি নির্মিত সেতুর কোনো সমস্যা হলে দ্রুত সংস্কার করা হয়। সম্ভবত এই সেতু একটি প্রকল্পের আওতায় করা হয়েছিলো। তবে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সেতুর দু’পাশ মাটি দিয়ে ভরাট করার চেষ্টা করবো।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই/আরআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!