ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

‘স্পর্শকাতর স্থানে হাত’ রাখায় মাদরাসা সুপার গ্রেফতার

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:১২, ১৭ মে ২০২৪
‘স্পর্শকাতর স্থানে হাত’ রাখায় মাদরাসা সুপার গ্রেফতার
গ্রেফতারকৃত মাদরাসা সুপার হাসিবুর রহমান হাসিব -ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় তৃতীয় শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে (১০) শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার সুপারিন্ডেন্ট (মাদ্রাসা প্রধান) মো. হাসিবুর রহমান হাসিবকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে নগরীর সোনাডাঙ্গা সৈয়দ আলী হোসেন সড়কের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

গ্রেফতারকৃত হাসিবুর রহমান শহীদ শেখ আবু নাসের দাখিল মাদরাসার সুপারিন্ডেন্ট। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা করেছেন। শ্লীলতাহানির শিকার ছাত্রী বর্তমানে সোনাডাঙ্গা থানা সংলগ্ন ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রয়েছে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে এলাকাবাসী মিছিল করেন। 

ছাত্রীর মা বলেন, আমার ছেলে ও মেয়ে দুজনই হাসিবুর রহমান ও তার বউয়ের কাছে প্রাইভেট পড়ে। মাগরিবের নামাজের পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত হুজুরের স্ত্রীর কাছে মাদরাসার পড়া শেষ করে হুজুরের কাছে কোরআন শরীফ পড়ে। হুজুরের স্ত্রীর কাছে ৮-১০ জন পড়লেও হুজুরের কাছে কোরআন শরীফ শুধু আমার দুই ছেলে-মেয়ে পড়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হুজুরের কাছে কোরআন শরীফ পড়ার সময় তিনি আমার ছেলেকে অজু থাকা সত্ত্বেও অজু করতে পাঠান। তখন আমার মেয়ে দরজার কাছে দাঁড়িয়েছিল। এ সময় হুজুর আমার মেয়েকে জোর করে ধরে কক্ষের মধ্যে নিয়ে বাতি নিভিয়ে দেন।  

তিনি আরো বলেন, এরপর আমার মেয়ের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌননীপিড়ন করে। এরমধ্যে আমার ছেলে অজু করে আসলে তখন তিনি আমার মেয়েকে ছেড়ে দিয়ে দুজনকেই কোরআন শরীফ পড়ান। আমার মেয়ে পড়া শেষে বাসায় এসে চিৎকার করে কান্না করতে থাকলে ওকে কান্নার কারণ জানতে চাইলে সব ঘটনা খুলে বলে।  

এদিকে এ ঘটনায় গ্রেফতার শিক্ষকের বিচারের দাবিতে জুতা ও ঝাড়ু নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। তারা জানান, এর আগেও একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে মাদরাসার সুপারিন্ডেন্ট হাসিবুর রহমান এ ধরনের অনৈতিক কাজ করেছেন। কিন্তু মানসম্মানের ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খোলেননি। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই উত্তম কুমার মিত্র বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় শহীদ শেখ আবু নাসের দাখিল মাদরাসার সুপারিন্ডেন্ট হাসিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতার মাদরাসা সুপারকে দুপুর ৩টার দিকে আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই ছাত্রী সোনাডাঙ্গা থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!