ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নিয়োগ পরীক্ষায় হাজির হননি একজন প্রার্থীও, নেপথ্যে যে কারণ

হারুন আনসারী, ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১৪:৫৯, ২৬ মে ২০২৪
নিয়োগ পরীক্ষায় হাজির হননি একজন প্রার্থীও, নেপথ্যে যে কারণ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যখন একটি পরিচ্ছন্নতা কর্মীর চাকরির জন্যেও এমএ পাশ চাকরি প্রার্থীদের ভিড় লেগে যায়, সেখানে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগ পরীক্ষায় একজন প্রার্থীও উপস্থিত হননি। যদিও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর চারজন প্রার্থী আবেদন করেন এবং তাদেরকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্রও সরবরাহ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (২৪ মে) ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। এর আগে, ঐ স্কুলের এ নিয়োগ পরীক্ষায় মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

বিষয়টি আমলে নিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) এসএম শাহাদাত হোসেনকে নিযুক্ত করা হয় নিয়োগ পরীক্ষার তদারকির জন্য। আর এরপরই সেখানে নিয়োগপ্রার্থীদের খুঁজে পাওয়া যায়নি পরীক্ষার দিনে।

Advertisement

ল্যাব সহকারী পদ ছাড়াও পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও আয়া পদেও নিয়োগ পরীক্ষা ছিল এদিনে। তবে উপস্থিত পরীক্ষার্থীদের কোটা পূরণ না হওয়ায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পদেও পরীক্ষা হয়নি। এ অবস্থায় একটি মাত্র আয়া পদেই নিয়োগ সম্পন্ন হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঐ বিদ্যালয়ে শুক্রবার কম্পিউটার ল্যাব সহকারী পদে ৪ জন, পরিছন্নতাকর্মী পদে ৪ জন এবং আয়া পদে ১৩ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন। শুক্রবারের ঐ নিয়োগ পরীক্ষার জন্য তাদের প্রবেশপত্রও দেওয়া হয়। তবে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে আয়া পদে ৮ জন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ২ জন উপস্থিত হন। আর ল্যাব সহকারী পদে কেউই উপস্থিত হননি।

এর আগে, এ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠে বিশেষ মহলের বিরুদ্ধে। চাহিদানুযায়ী অর্থ না পাওয়ায় কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে গ্রহণ করা ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়ার অভিযোগও উঠে।

কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষে নতুন কমিটির নির্বাচনের জন্য এরইমধ্যই তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগেই নিয়োগের নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা চালানো হয়। এর আগে এসব পদে নিয়োগ প্রার্থীদের পরিবর্তন করার জন্য ২০২৩ সাল থেকে পরপর তিনবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিলো।

সর্বশেষ চলতি বছরের মার্চ মাসে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লখ করা হয় যে, পূর্বে যারা আবেদন করেছেন পুনরায় তাদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। তবে কয়েকজন নিয়োগ প্রার্থী জানান, তারা নিয়োগ পরীক্ষার প্রবশপত্র পাননি।

এ অবস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিতের জন্য বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরসহ ৮ জন ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। তাদের অভিযাগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমীন ইয়াসমিনকে দায়িত্ব দেন। এরপর ইউএনও বুধবার বিকেলে উভয়পক্ষকে নিয়ে শুনানি শেষে জেলা প্রশাসককে অবগত করার পর নিয়োগ পরীক্ষা তদারকি করার জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) মো. শাহাদাত হাসেনকে নিযুক্ত করা হয়।

এ ব্যাপারে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়োগবিধি মেনেই তিনটি পদের মধ্যে পরিপত্র অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক পরীক্ষার্থী উপস্থিত না হওয়ায় ল্যাব সহকারী ও পরিছন্নতাকর্মী পদ দুটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। আর আয়া পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া হয়। ঐ পদ ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় ৩ জন উত্তীর্ণ হন। তিনজনের মধ্যে ডলি খানম নামে এক পরীক্ষার্থী সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ায় তাকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে নিয়োগ কমিটি।

এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট (এনডিসি) এ এস এম শাহাদাত হোসেন বলেন, তিনটি পদের মধ্যে একটি পদে নিয়োগ সম্পন হয়েছে। বাকি দুটি পদে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিয়োগ প্রার্থী উপস্থিত না হওয়ায় পদ দুটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!