ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রেমালে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি: আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো ১ হাজার পরিবার

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:২৯, ১ জুন ২০২৪
রেমালে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি: আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো ১ হাজার পরিবার
এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার পরিবার

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় এক হাজার পরিবার এখনো নিজ ঘরে উঠতে পারেনি। ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে জলোচ্ছ্বাসের কারণে ঝালকাঠি জেলার ৫৮৯টি ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। ৪ হাজার ৬০০ ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানবতার জীবনযাপন করছে ঘর হারিয়ে এসব মানুষ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন।

জানা গেছে, বিষখালী নদী তীরবর্তী সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চরভাটারাকান্দা গ্রামে বেড়িবাঁধ না থাকায় গত ২৬ মে দুপুরেই জোয়ারের পানি আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করতে শুরু করে। পানির চাপ বেশি দেখে ঐ এলাকার বাসিন্দারা তাদের জরুরি মূল্যবান সম্পদ ও গরু-ছাগল নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠে। ঝড়ের কবলে ঘরের উপড়ে গাছ পড়ে মাথা গোঁজার শেষ ঠাঁইটুকুও বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।

পানি বৃদ্ধিতে কাঁচা ঘরের ফ্লোর এখনো স্যাঁতস্যাঁতে রয়েছে। ঘরে উঠতে গেলেই কর্দমাক্ত হয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। তাই এখনো অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রেই রাত্রি যাপন করছেন। শুধু ঐ গ্রামের মানুষই নন, জেলার প্রতিটা এলাকায় এমন অবস্থা নিম্ন আয়ের মানুষের। তারা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

Advertisement

রেমালে প্রভাবে পানিবন্দিক্ষতিগ্রস্ত হেমায়েত উদ্দিন জানান, আমাদের পাঁচ জনের সংসার। একাই উপার্জন করে সংসার চালাই। কোনোমতে কাঠের ঘর তুলে টিনের ছাউনি দিয়ে বসবাস করি। দিনমজুরি ও অন্যের জমিতে কৃষি কাজ করে যা উপার্জন করতাম তা দিয়ে সমান সমান সংসার চালাতে পারতাম। ঝড়ে গাছ পড়ে আমার ঘরটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এখন আর সেই ঘরে থাকতে পারছি না। পাশের একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছি। ঘরটি সংস্কার করারও কোনো সামর্থ্য নেই আমার। অন্যের ঘরে ইটের অস্থায়ী চুলা তৈরি করে রান্না করে তা খেয়ে কোনোমতে জীবনযাপন করছি।

মামুন হাওলাদার জানান, আমাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বলতেই শুধু বাপের ভিটা। রেমালের প্রভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের টিনকাঠের ঘরেও পানি ঢুকেছে। ঘরের মধ্যেও হাঁটু সমান পানি হওয়ায় চৌকিতে মালামাল উঠিয়ে প্রতিবেশীর ঘরে আশ্রয় নিয়েছি। এখন পর্যন্ত ঐ ঘরেই বসবাস করছি। যতক্ষণে ঘরের ফ্লোর না শুকাবে ততক্ষণে ঘরে উঠতে পারবো না। রোহিঙ্গার মতোই বসবাস করতে হচ্ছে এখন।

বিধবা লাইজু বেগম জানান, স্বামী মারা গেছেন দুই বছর আগে। দুটি ছেলে সন্তান নিয়ে বসবাস করতাম। দিনমজুর স্বামীর ভিটা ছাড়া আমাদের আর কোনো জমি নেই। স্বামী মারা যাওয়ার পরে মানষের বাসায় ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালাতাম। ঝড়ে আমাদের কোপা খুঁটির ঘরের উপরে প্রতিবেশীর গাছ পড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। 

তিনি আরো বলেন, ঝড়ের সময় বাড়ির একটি ঘরে আশ্রয় নিলেও পরে আর সে ঘরে আমাদের রাখেনি। আধা কিলোমিটার দূরে স্বামীর দিন মজুরি সহকর্মী একজনের ঘরে আশ্রয় নিয়েছি। একবান টিন কিনেও যে নিজের ঘরে আশ্রয় নেবো সেই সাধ্যও নেই আমার। এখন ঐ ঘরেই পরবাসের মতোই থাকছি। তারা দয়া করে যা দেয় তাই খেয়ে দিনাতিপাত করছি।

রেমালে প্রভাবে প্লাবিতহনুফা বেগম জানান, আমার বাবা মারা গেছেন অনেক বছর আগে। আমিও স্বামী পরিত্যক্তা। মায়ের সঙ্গেই ঘরে থাকতাম। বন্যা ঘরের উপড়ে গাছ পড়ে তা শেষ হয়ে গেছে। মাটির ঘরে পানি ওঠায় তাও ফুঁসে গেছে। এখন ঘরে থাকতে পারছি না। পাশের বাড়ির একজনের গোয়ালঘরে আশ্রয় নিয়েছি। রান্না করে খাবার মতোও আমাদের কোনো উপায় নেই। বৃদ্ধ মাকে নিয়ে খুবই কষ্টে আছি। কেউ যদি সাহায্য করতো, তাহলে হয়তো মায়ের মুখে একটু খাবার তুলে দিতে পারতাম। এখন যেভাবে বেঁচে আছি, তাতে মানুষ বাঁচতে পারে না।

জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম জানান, আমরা বিশ্বস্ত লোক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করেছি। সরকারি সহায়তার বরাদ্দ পেলে যথাযথভাবেই তা বণ্টন করা হবে। বন্যার সময় আশ্রিতদের শুকনা খাবার সরবরাহ করেছি। কারো সমস্যা হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা তা জরুরি ফান্ডের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবো।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!