ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না করেই সেতু নির্মাণ, ভোগান্তি 

মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ)
প্রকাশিত: ২০:০৯, ৯ জুন ২০২৪
বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না করেই সেতু নির্মাণ, ভোগান্তি 
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিকল্প কোনো সংযোগ সড়ক বা অস্থায়ী সেতুর ব্যবস্থা না করেই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার কুশলা খালের ওপর চলছে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ। ব্রিজের সংযোগ সড়ক কেটে ফেলায় ২০ দিন ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এ রুটে চলাচলকারী যাত্রী, কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ অপামর জনসাধারণ।

চরম বিপাকে পড়েছেন ব্রিজটির দুই পাড়ে থাকা মাদরাসার শিক্ষার্থী, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের রোগী ও বাজারের ব্যবসায়ীরা।

সেতু নির্মাণের শুরুতে বিকল্প সড়ক না রাখার বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করেছে এলজিইডি। ব্রিজের নির্মাণের জন্য বিকল্প সড়ক নির্মাণের ব্যয় নিয়ে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।

Advertisement

প্রকল্প সূত্র জানায়, ৩ কোটি ৫০ লাখ ২০ হাজার ৩৮৩ টাকা ব্যয়ে মাঝবাড়ি-রাধাগঞ্জ সড়কের কুশলা খালের ওপর ২৫ মিটার দৈর্ঘ্য আরসিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণ কাজ পায় বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় এক মাসে আগে শুরু হয়েছে প্রকল্পের কাজ। যা শেষ হওয়ার কথা আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।

বর্তমান ব্রিজটি ব্যবহারে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নতুন ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কাজের শুরুতেই ব্রিজের পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়ক কেটে ফেলায় সব ধরনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। 

কুশলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পল্লী চিকিৎসক হাফিজুর রহমান জানান, নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য বর্তমান ব্রিজের সংযোগ সড়ক কেটে দেওয়ায় পণ্য পরিবহনসহ সব ধরনের যোগাযোগে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। গ্রামের সরু রাস্তা দিয়ে ২-৩ কিলোমিটার ঘুরে ভ্যানে করে সাধারণ মানুষ যাতায়াত করলেও ব্যবসায়িক পণ্যসহ ভারী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। প্রায় ১৫ কিলোমিটার ঘুরে রাধাগঞ্জ বাজার হয়ে দোকানের মালামাল আনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

১৫ দিন ধরে গ্যাসের সিলিন্ডার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন এই ব্রিজ সংলগ্ন ব্যবসায়ী সোহাগ মিয়া। 

তিনি বলেন, দোকানে গ্যাসের খালি সিলিন্ডার পড়ে আছে। কোম্পানির গাড়ি আসছে না ব্রিজের সমস্যার কারণে। ক্রেতারা গ্যাসের সিলিন্ডার নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। 

রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান জানান, সড়কটি বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দেশের ছোটখাটো যেকোনো সেতু নির্মাণের সময় বিকল্প সড়ক নির্মাণ করে তারপর কাজ করা হয়, কিন্তু এখানে এত মানুষের চলাচল সত্ত্বেও কেন বিকল্প সড়ক রাখা হলো না, তা বোধগম্য নয়।

ব্রিজ সংলগ্ন কুশলা নেছারিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ বাকের হোসেন বলেন, এখানকার শিক্ষার্থীরা খুব বিপদে আছে বিকল্প সড়ক না থাকার কারণে। 

মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাফিজুর বলেন, প্রতিদিন ৩০ টাকা বেশি দিয়ে অন্য পথে ঘুরে মাদরাসায় আসতে হচ্ছে।

টুটাপাড়া গ্রামের গৃহিণী হেলেনা বেগম বলেন, ব্রিজের সঙ্গেই কুশলা ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এখানে চিকিৎসা নিতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বিকল্প সড়ক না থাকার কারণে। 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখানে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। প্রকল্পটিতে বিকল্প সড়ক নির্মাণের কোনো ব্যয় রাখা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট দফতরে কথা হয়েছে দ্রুত বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হবে।

কুশলা ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ কালু বলেন, বিকল্প সড়ক না করে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করা দুঃখজনক। দাফতরিক ব্যস্ততার কারণে সংশ্লিষ্ট দফতরে কথা বলতে পারিনি। বিষয়টি নিয়ে আজই নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলবো।

এলজিইডির কোটালীপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. শফিউল আজম বলেন, ওয়ার্ক অর্ডারে বিকল্প সড়কের ব্যয় ধরা হয়েছে। বিষয়টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বুঝতে পারেনি। তাদের সঙ্গে কথা বলেছি দ্রুত বিকল্প সড়ক নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য। 

বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীনুর আক্তারের মোবাইলে কল দিয়ে এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে/এমআরকে
ট্যাগ: গোপালগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!