কোরবানির চামড়ার গাড়ি আটকে টাকা চাইল পুলিশ!
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কোরবানির গরুর চামড়া বোঝাই পিকআপ ভ্যান থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৭ জুন) রাত ১২টার দিকে উপজেলার কালা বিবি দীঘির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সাতকানিয়া উপজেলার দক্ষিণ চরতি মজিদিয়া দাখিল মাদরাসায় দান করা ১২৫টি গরুর চামড়া বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান চট্টগ্রাম শহরের বটতল এলাকায় আড়তদারের কাছে যাচ্ছিল বিক্রির উদ্দেশ্যে। রাত ১২টার দিকে পিকআপ ভ্যানটি আনোয়ারার কালা বিবি দীঘির মোড় এলাকায় পৌঁছালে থামানোর নির্দেশ দেন আনোয়ারা থানার এসআই হোসেন ইবনে নাঈম ভূঁইয়া। এ সময় গাড়িতে চামড়া থাকায় গাড়িতে থাকা লোকজনের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। টাকা না দিলে তাদের বিরুদ্ধে চামড়া পাচার মামলা দেওয়ার হুমকি দেন।
তবে পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মাহমুদ আলী চৌধুরী ও এক সাংবাদিক ঐ পুলিশ কর্মকর্তাসহ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে পিকআপ ভ্যানটি ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার কারণে চামড়ার মান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চামড়াগুলো অতিরিক্ত কম মূল্যে (প্রতিটি ৫০ টাকায়) বিক্রি করতে হয়।
.png)
জানতে চাইলে ড. মাহমুদ আলী চৌধুরী বলেন, মাদরাসাটি প্রায় ৩৫ বছরের পুরানো। তাই স্থানীয়রা মাদরাসায় চামড়া দান করেন। সেই চামড়াগুলো ঠিক থাকা অবস্থায় প্রতি পিস ৩০০ টাকা দরে আড়তদারের কাছে পাঠাতে একটি পিকআপ ভ্যানে তোলা হয়। শহরে আসার আগে আনোয়ারা থানার এক অফিসার ভ্যানটি আটকে দেন। এ সময় তিনি মামলা দেওয়ার কথা বলেন। পরবর্তীতে আমরা থানার ওসির সঙ্গে কথা বলার পর পিকআপ ভ্যানটি ছাড়িয়ে চামড়াগুলো আড়তদারের কাছে পৌঁছানো হয়।
তিনি বলেন, দুই ঘণ্টা সময় দেরি হওয়ায় চামড়ার মান নষ্ট হয়ে যায়। তাই চামড়াগুলো কাঙ্ক্ষিত আড়তদারের কাছে বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। পরে বিভিন্নজনের কাছে ধর্না দিয়ে একপর্যায়ে এক আড়তদারের কাছে প্রতি পিস ৫০ টাকা করে বিক্রি করতে হয়। পুলিশের কারণে মাদরাসার বড় ক্ষতি হয়ে গেল। আমরা অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের শাস্তি দাবি করছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার এসআই হোসেন ইবনে নাঈম ভূঁইয়া বলেন, চামড়া পরিবহনে বিধিনিষেধ রয়েছে। এজন্য আমরা গাড়িটি ঢাকায় যাচ্ছে মনে করে আটক করেছিলাম। থানায় নিয়ে যাওয়ার পর ওসি স্যারসহ কথা বলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
টাকা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা দাবি করা হয়নি। তবে চামড়া পাচারের মামলা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে আনোয়ার থানার ওসি সোহেল আহমেদের মুঠোফোনে কল করা হলেও সংযোগ না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত চামড়া মনিটরিং সেল থেকে জানা যায়- চামড়া পরিবহনে কোনো বিধিনিষেধ নেই। শুধুমাত্র ঢাকার ক্ষেত্রে কয়েকদিন পর চামড়া প্রবেশ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া সারাদেশে চামড়া পরিবহনে কোনো বিধিনিষেধ নেই।