ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ছাত্রাবাসের ট্রাঙ্কে মিলল কিশোরের টুকরো টুকরো দেহ

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:৫০, ২৩ জুন ২০২৪
ছাত্রাবাসের ট্রাঙ্কে মিলল কিশোরের টুকরো টুকরো দেহ
তপু হোসেন

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় নিখোঁজের আট দিন পর একটি ছাত্রাবাসের ট্রাঙ্ক থেকে তপু হোসেন নামে এক কিশোরের টুকরো টুকরো লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় শহরের মশুরিয়া পাড়ায় একটি মেসের কক্ষে রাখা ট্রাংকের ভেতর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত তপু মশুড়িয়া পাড়া এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি শ্রমিকের কাজ করতেন। 

পুলিশের ধারণা, মুক্তিপণের জন্য ওই কিশোরকে অপহরণ করা হয়েছিল। টাকা না পেয়ে তাকে হত্যা করে লাশ গুমের জন্য ট্রাঙ্কে রাখা হয়। 

Advertisement

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম।

নিহত তপুর বড় ভাই অপু জানান, গত ১৫ জুন সকাল ১১টার থেকে তপুর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। ওইদিন রাত ১০টার দিকে তপুর ফোন নম্বর থেকে কল করে জানানো হয় আপনার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। বিকাশে ৩০ হাজার টাকা না দিলে তপুকে হত্যা করা হবে। তখন খরচসহ ৭ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তপুর ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন আমার মা বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় জিডি করেন। এরপর শনিবার (২২ জুন) পুলিশ মরদেহের খোঁজ পায়।

অপু আরো জানান, স্থানীয়দের সঙ্গে পূর্ব শত্রুতার জেরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বন্ধুদের দিয়ে বাড়ির পাশের অরণ্য ছাত্রাবাসের তিন তলার ওই কক্ষে নিয়ে তপুকে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ টুকরো টুকরো করে ট্রাঙ্কে ভরে রেখে হত্যাকারীরা পালিয়ে যান খুনিরা।

অরণ্য ছাত্রাবাসের ৩০৪ নম্বর কক্ষে থাকা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ৩য় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, ঈদের ছুটিতে আমি গত ১১ জুন বাড়িতে চলে যাই। শনিবার (২২ জুন) দুপুরের দিকে ছাত্রাবাসের নিজ কক্ষে আসি। দরজার কাছে আসলে ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। পাশের ৩০৫ নম্বর কক্ষের ভেতর থেকে দরজা দিয়ে বের হওয়া রক্ত দেখতে পেয়ে আমি মেসের আয়ার মাধ্যমে মেস মালিককে জানাই। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কক্ষের তালা খুলে ট্রাঙ্কের ভেতরে রাখা মরদেহের টুকরো দেখতে পায়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত তপু একই এলাকার কয়েকজন উঠতি বয়সী মাদকাসক্ত ছেলেদের সঙ্গে চলাফেরা করতো। তারা সব সময় স্থানীয় হাসুর দোকানে বসে আড্ডা দিত। সম্প্রতি তপুও মাদক সেবন শুরু করেছিল। ঈদের আগে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করেই হত্যার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

ঈশ্বরদী থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নিহত তপুর মা বাদী হয়ে থানায় গত ১৬ জুন একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেই সূত্র ধরে মশুড়িয়া পাড়ার একটি মেসে ট্রাঙ্কের মধ্যে টুকরো টুকরো করা অর্ধগলিত মরদেহ পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে সন্দেহজনক দুজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!