ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত স্কুলছাত্রীর গলায় ছুরি ধরে ধর্ষণচেষ্টা, অতঃপর...

নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৫৯, ২৬ জুন ২০২৪
ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত স্কুলছাত্রীর গলায় ছুরি ধরে ধর্ষণচেষ্টা, অতঃপর...
অভিযুক্ত উত্তম বিশ্বাস

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে ঘরে ঢুকে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টায় চালিয়েছেন উত্তম বিশ্বাস নামে এক যুবক। ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় ওই ছাত্রীর গলা ও ঠোঁটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান ওই যুবক। পরে আহত ছাত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) এ ঘটনায় মোহনগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর মা। এর আগে, রোববার (২৩ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। 

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত উত্তম বিশ্বাস  উপজেলার ভাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

Advertisement

মামলার বরাতে মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘উত্তম বিশ্বাস বখাটে প্রকৃতির ছেলে। বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও এলাকার বিভিন্ন মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে। প্রতিবেশী ওই মেয়েটিকেও স্কুলে যাওয়ার পথে নানা কুপ্রস্তাব দিত। এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয় উত্তম। রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সাগরিকার বাবা-মা বাড়ির পাশে বিলে জাল দিয়ে মাছ ধরতে যায়। এ সময় ঘুমিয়ে ছিলো মেয়েটি। এ সুযোগে ঘরে ঢুকে মেয়েটির গলায় ছুরি ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালান উত্তম। বাধা দিলে তার গলায় ও ঠোঁটে ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যান উত্তম।

ওসি আরো বলেন, স্থানীয়রা মেয়েটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। এ ঘটনায় মেয়েটির মা মামলা করেন। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ভুক্তভোগীর মা জানান, উত্তম একটা খারাপ ছেলে। আগে আমার ভাসুরের মেয়েকে উত্যক্ত করত। কিছুদিন ধরে আমার মেয়েকে উত্যক্ত করা শুরু করেছে। আমি এ ঘটনার ন্যায় বিচার চাই। 

ভুক্তভোগীর বাবা জানান, অনেকে আপোষের জন্য চাপ দিচ্ছিল। ভয়ে মেয়েটাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে এসেছি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য সেবক সরকার বলেন, ভোরেই মেয়ের বাবা-মা বিষয়টা আমাকে জানান। আমি প্রথমে মেয়েটার চিকিৎসা করাতে বলি। পরে আসামি পক্ষ আমার কাছে এসে বলে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি শেষ করার জন্য। মেয়েটির স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিলাল মিয়াসহ আমরা বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে শেষ করার উদ্যোগ নিলেও মেয়ের বাবা-মা তা মানেননি। তারা মামলা করেছেন। 

মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলাল মিয়া জানান, উত্তমের বিরুদ্ধে এমন আরো অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই। তবে সালিশের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা কবির জানান, এতো বড় ঘটনা অথচ এখন পর্যন্ত আমাকে কেউ জানায়নি। আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টা জানলাম। এ বিষয়ে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!