সহপাঠীর ভয়ঙ্কর কাণ্ড: মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা চাপা দিতেই গলা কাটে মাহির
মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ধামাচাপা দিতে মোহাইমেনুল ইসলাম মাহি (১৪) নামে গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুলের এক শিক্ষার্থীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেছে তারই কয়েকজন সহপাঠী। এ ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার (২৬ জুন) গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা মডেল থানার বড়াইদ গ্রামের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে জোবায়ের রহমান আলভী (১৫), বর্তমানে সে গাজীপুর মহানগরের কলাবাগান এলাকার সামসুর বাড়ির ভাড়াটিয়া; একই স্কুলের ছাত্র এবং গাজীপুর মহানগরের হাতিয়াব এলাকার স্থানীয় তাইফ ইবনে মোফাসাল (১৫) এবং গাজীপুর আইডিয়াল স্কুলের ছাত্র এবং মহানগরের মারিয়ালী কলাবাগান এলাকার ভাড়াটিয়া নুরু মিয়ার ছেলে হৃদয় (১৫)।
ভুক্তভোগী মোহাইমেনুল ইসলাম মাহি ওই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং গাজীপুর মহানগরের পশ্চিম চত্তর (স্কুল গেইট) এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মো. মহসিন মিয়ার ছেলে।
.png)
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম এবং মামলার বাদী ভিকটিমের মা ফারিয়া আক্তার জানান, মাহির সম্প্রতি একটি মোবাইল হারিয়ে যায়। গত ২৪ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিন সহপাঠী জোবায়ের রহমান আলভি, তাইফ ইবনে মোফাসাল এবং তারেক আজিজ পশ্চিম চত্তর স্কুল গেট এলাকার ভিকটিমের বাসার সামনে এসে মাহিকে বাসা থেকে বাইরে নিয়ে যায়। পরে তারা মাহির হারিয়ে যাওয়া মোবাইলটি পাওয়া গেছে বলে কৌশলে অপহরণ করে একটি অটোরিকশায় তুলে পার্শ্ববর্তী ২৬ নম্বর ওয়ার্ড মারিয়ালী কলাবাগানের পাগলার মাঠে নিয়ে যায়।
সেখানে নিয়ে তারা এবং আগে থেকে অবস্থান করা হৃদয় নামে একজন মিলে মাহির সঙ্গে থাকা স্মার্টফোনটি ছিনিয়ে নেয়। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তারা ভিকটিমকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সে মোতাবেক পাশ্ববর্তী বিথীকা আবাসিক প্রকল্পের নির্মাণাধীন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কাটে। মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে ওই ভবনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
পরে দুপুর পৌনে ২টার দিকে স্থানীয় কয়েক যুবক ওই ভবনে গিয়ে জ্ঞানহীন এবং জীবিত অবস্থায় মাহিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। মাহি বর্তমানে গাজীপুর শহিদ তাজ উদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ২৫ জুন ভিকটিমে মা বাদী হয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানায় উল্লেখিত চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেছেন।