ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

মিতু হত্যায় শেষ হলো ৫২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:১২, ১ জুলাই ২০২৪
মিতু হত্যায় শেষ হলো ৫২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ
মাহমুদা খানম মিতু -ফাইল ছবি

চট্টগ্রামে সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় আরো দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। এ নিয়ে মোট ৫২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো।

সোমবার (১ জুলাই) চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের আদালতে সাক্ষ্য দেন চট্টগ্রামের সাবেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার জাহান এবং নগর গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার (অবসরপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। এ সময় আসামি বাবুল আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মোহাম্মদ আবদুর রশিদ বলেন, চট্টগ্রামের সাবেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার জাহানের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া মামলার সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার (অবসরপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলেও জেরা সম্পন্ন হয়নি। এ নিয়ে মোট ৫২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। 
আগামী ২ জুলাই মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার সাক্ষ্যগ্রহণের সময় আসামি বাবুল আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরের জিইসি মোড়ের কাছে ওআর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে গুলি ও ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। ঐ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন তার স্বামী তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার।

মামলাটি তদন্ত করছিল নগর ডিবি পুলিশ। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ‘আদালতের নির্দেশে’ মামলার তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরপরই ঘুরতে থাকে মামলার গতিপ্রকৃতি। পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসতে থাকে স্ত্রী হত্যার সঙ্গে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার নানা দিক। 

২০২১ সালের ১০ মে মামলার বাদী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবুল আক্তারকে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে ডেকে নেয়া হয়। এরপরই তাকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। পরে ১২ মে দুপুরে বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে নগরের পাঁচলাইশ থানায় আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। 

তদন্ত শেষে ঐ মামলায় বাবুল আক্তারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে দুই হাজার ৮৪ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দেয় পিবিআই। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। গত বছরের ৯ এপ্রিল মামলাটিতে প্রথম সাক্ষ্য দেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। এরপর মিতুর মা শাহেদা মোশাররফসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। এ মামলায় মোট সাক্ষী ৯৭ জন।

বাবুল ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুসা, এহতেশামুল হক ভোলা, মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, খায়রুল ইসলাম ওরফে কালু ও মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মুসা পলাতক রয়েছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!