ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চট্টগ্রামের সড়কে নামলো এসি বাস, থাকছে যেসব সুবিধা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:২৯, ২ জুলাই ২০২৪
চট্টগ্রামের সড়কে নামলো এসি বাস, থাকছে যেসব সুবিধা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দীর্ঘ আট বছর পর বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সড়কে নেমেছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস। স্থানীয় পরিবহন সংস্থা শান্তি এক্সপ্রেস লিমিটেডের উদ্যোগে ‘চট্টলা চাকা এক্সপ্রেস’ নামে পরিচালিত হচ্ছে সার্ভিসটি। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে নগরে চলাচল করছে বাসগুলো।

চট্টলা চাকা এক্সপ্রেস সার্ভিসের জিএম মোহাম্মদ আরিফ বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রামের সড়কগুলোতে চলাচল করছে ‘চট্টলা চাকা এক্সপ্রেস’। ৩৮ আসনের বাসগুলো কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে কাটগড় মোড় পর্যন্ত ১৪ নম্বর রুটে নিয়মিত যাতায়াত করবে। সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা আর সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড় রয়েছে।

এর আগে, সোমবার নগরের আগ্রাবাদের একটি হোটেলে ফিতা কেটে এ সার্ভিসের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী। এ সময় নগর পুলিশের কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ মাসুদ আহাম্মদ, বিআরটিএ চট্টগ্রামের পরিচালক মোহাম্মদ মাসুদ আলম এবং নিটল মটরস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তানবীর শহীদসহ অন্যান্যরা অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, এসি বাস সার্ভিস চট্টগ্রাম নগরের পরিবহন সেক্টরে একটি নতুন সংযোজন। আমি মনে করি এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। কারণ সবকিছু পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা চাই পরিবহনেও পরিবর্তন আসুক। এসি বাস সার্ভিস চালুর মাধ্যমে এই পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে। যে দেশের কমিউনিকেশন যত উন্নত, সে দেশের অর্থনীতি তত সমৃদ্ধ। এটির মাধ্যমে চট্টগ্রামের পরিবহন জগত আরো এগিয়ে গেল।

পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর অনুরোধ জানিয়ে মেয়র বলেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর কথা বলেন সবাই। পরিবহনের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু পুলিশ বা সিটি কর্পোরেশনের নয়। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের গণপরিহন আমরা সুন্দর কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে পারলে গণপরিবহন আরো সমৃদ্ধ হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নগর পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, মানুষের চাহিদা এবং সামর্থ্য আছে, কিন্তু নগরে সেরকম যান না থাকার কারণে তাদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। আমি আশা করছি এই বাস সার্ভিসের মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরে নতুন দিগন্তের সূচনা ঘটবে। আর যারা সামর্থ্যবান আছেন, তারা এই ব্যবসায় নেমে আসবেন। আধুনিক বাস আসলে লক্কর-ঝক্কর বাস এমনিতেই বাদ পড়ে যাবে।

শান্তি এক্সপ্রেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, কাউন্টারগুলো যাত্রীর চাপ অনুযায়ী হলুদ এবং লাল ক্যাটাগরিতে ভাগ করে দেওয়া হবে। এসি বাসে হাফ ভাড়া নেয়ার প্রজ্ঞাপন না থাকলেও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কার্ড সিস্টেম করা হবে। ঐ কার্ড দিয়ে যাতায়াত করলে তারা নির্দিষ্ট পরিমাণে ভাড়া ছাড় পাবেন।

সভাপতির বক্তব্যে শান্তি এক্সপ্রেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম চৌধুরী বলেন, আমরা ১১টি গাড়ির পারমিট পেয়েছি। ইতোমধ্যে চালকদের পরীক্ষা নিয়ে তাদের নিয়োগ দিয়েছি। আমাদের চারজন চালক সবসময় স্ট্যান্ডবাই থাকবে। যাতে চালক সংকট না হয়। তাছাড়া চালকদের জন্য নির্ধারিত ড্রেস থাকবে। নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গাড়ি ছাড়া হবে। কোনো যাত্রী দাঁড়িয়ে যেতে পারবে না এবং সিটের বাইরে যাত্রী নেয়া হবে না। অ্যাপসের মাধ্যমে ই-টিকিট গ্রহণ করবে যাত্রীরা।

২০১৬ সালে নগরের ১৪ নম্বর রুটে ছয়টি পরিবহন নিয়ে এসি বাস সার্ভিস চালু করেছিল প্রিমিয়ার ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি। সার্ভিসটি স্থায়ী হয়নি। ২০১৯ সালে নগরের তিনটি রুটে এসি বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এ ব্যাপারে চসিকের ৫২তম সাধারণ সভায় সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছিল। প্রথম দিকে তিনটি রুটে ১০০টি বাস নামানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়। এরমধ্যে কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা, ভাটিয়ারী থেকে লালদীঘি এবং নিউমার্কেট থেকে ফতেয়াবাদ রুটে নামানোর কথা ছিল। যদিও পরে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।

বিআরটিএর তথ্য বলছে, চট্টগ্রাম নগরে বাসের জন্য ১৭টি, হিউম্যান হলারের জন্য ১৮টি ও অটোটেম্পোর জন্য ২০টি রুট রয়েছে। এরমধ্যে নির্ধারিত রুটগুলো দিয়ে প্রতিদিন এক হাজার ২০০ এর বেশি বাস চলাচল করে। দুই হাজারের বেশি হিউম্যান হলার এবং অটোটেম্পো চলাচল করে। তবে কত সংখ্যক গণপরিবহন রয়েছে এবং কত যাত্রী এগুলো ব্যবহার করেন, তার তথ্য নেই বিআরটিএর কাছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: চট্টগ্রাম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!