ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান, এবার…

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:২৩, ৭ জুলাই ২০২৪
বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান, এবার…
ছবিতে গ্রেফতারকৃত ইশতিয়াক

ইশতিয়াক আহম্মদ বায়েজিদ। চট্টগ্রাম বন্দরের একজন কর্মচারী। কিন্তু নিজেকে পরিচয় দিতেন পুলিশের কর্মকর্তা হিসেবে। এ জন্য নামও ঠিক করেছিলেন একটি। রফিকুল ইসলাম। অর্থাৎ, এসআই রফিকুল ইসলাম পরিচয়ে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করতেন ইশতিয়াক। ‘পুলিশ কর্মকর্তা’ বলে কথা। তাই প্রতিবাদ করার সাহসও দেখাতেন না অনেকে।

কিন্তু বাংলায় প্রবাদ আছে- ‘বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান, এবার ঘুঘু তোমার বধিব পরান।’ সেই প্রবাদের মতো করেই এবার ধান খাওয়া ঘুঘু ধরা দিল জালে। সর্বশেষ এক বিকাশ দোকানির টাকা আত্মসাৎ করে আসল পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন ইশতিয়াক।

ঐ দোকানির করা মামলায় শনিবার (৬ জুলাই) চট্টগ্রাম নগরের বারিক বিল্ডিং মোড় এলাকা থেকে ইশতিয়াককে গ্রেফতার করে বন্দর থানা পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

Advertisement

পুলিশ জানায়, নিজেকে পুলিশের এসআই পরিচয় দিয়ে মানুষের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করতেন ইশতিয়াক। মূলত মাদক বিক্রেতা ও ক্রেতারাই ছিল তার টার্গেট। মাদক সেবন করেন এমন দুজনের কাছ থেকে নয় হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাৎ করেন ইশতিয়াক। পরে একজনের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ইশতিয়াক আহম্মদ বায়েজিদের বাড়ি চাঁদপুরে হলেও বর্তমানে থাকেন চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাটের বন্দর আবাসিক কলোনিতে। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের হাইড্রোগ্রাফি বিভাগে গ্রিজার পদে কর্মরত।

বন্দর থানার ওসি মনজুর কাদের মজুমদার বলেন, বন্দর থানার এসআই রফিকুল ইসলাম পরিচয় দিয়ে বন্দর ভবনের আশপাশ থেকে বারিক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে আসছিলেন ইশতিয়াক। নগরের ফকিরহাট এলাকার এক রেস্তোরাঁর মালিকের কাছ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকা হাতিয়ে নেন। তার পাশের এক বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে বিকাশে নেন সাত হাজার টাকা।

ওসি বলেন, সেই এজেন্ট বিকাশে দেওয়া টাকা না পেয়ে থানায় এসে যোগাযোগ করেন। এসআই রফিকুল ইসলামের নাম জানান। কিন্তু আমাদের থানায় রফিকুল ইসলাম নামে কোনো এসআই নেই। তখনই আমরা পুলিশ সেজে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারি। এ ঘটনায় শুক্রবার (৫ জুলাই) রাতে মামলা করেন ঐ বিকাশ এজেন্ট। এরপর ইশতিয়াককে শনাক্ত করে আমরা গ্রেফতার করি। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেন ইশতিয়াক। বিকাশ এজেন্টের করা মামলায় শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!