গত কয়েক বছরে ‘অস্বাভাবিকভাবে’ অর্থ সম্পদের মালিক হওয়া সোহেলের গ্রেফতারের এই খবরে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসী। সোহেলের গ্রামের বাড়ি চারপাশে তার পরিবার অনেক জমিজমার মালিক হওয়ার বিষয়টি নিয়েও আগে থেকে কৌতূহলী স্থানীয়রা। সোহেলের বাবা এলাকায় ‘আবদুল ওহাব বিএসসি’ নামে পরিচিত। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সোহেল সবার ছোট। তার বাবা বর্তমানে আমেরিকায় অবস্থান করছেন।
আমড়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সম্প্রতি সোহেলের পরিবার বাড়ির পাশে দেড় কোটি টাকায় জমি কেনে, এটা সবাই জানে। তারা প্রচুর টাকার মালিক, প্রচুর সম্পদের মালিক। সোহেলের ভাইদের বুড়িচং আর কুমিল্লা শহরে স্বর্ণের দোকান আছে, কিন্তু তাদের দোকান দেখলে বোঝা যায় না যে, এত টাকার মালিক। আর যতটুকু শুনেছি, সোহেল ঢাকায় বড় কারবারি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সম্পদের বিষয়ে স্থানীয়দের কাছে যা শুনেছি, তা অস্বাভাবিক।’
.png)
সোহেলের গ্রেফতারের বিষয়ে বানাসুয়া এলাকার ইউপি সদস্য মো. মাইনুদ্দিন বলেন, ‘এমনি তো জানি সে (সোহেল) ভালোই। কিন্তু কাজ কারবার যে অন্যরকম করে, সেটা জানতাম না।’
বানাশুয়া গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, বাবার নামেই জমি কিনেছেন সোহেল। এলাকাবাসী খুব বেশি মানুষের সঙ্গে চলাফেরা নেই তাদের। ঢাকা থেকে সোহেল যখন বাড়িতে আসতেন, তখন একা একা চলাফেরা করতেন। কারও সঙ্গে তেমন মেলামেশা করতেন না।
ঢাকায় সোহেল মিরপুর-১ এর ব্যবসায়ী। তিনি মিরপুর ক্লাবের একজন সদস্য এবং মিরপুর ক্লাব বিল্ডার্সের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সে মিরপুর-২ ‘এ’ ব্লকের ২ নম্বর সড়কের ১/১ বাসায় থাকেন।
এ ঘটনার বিষয়ে সোহেলের পরিবারের বক্তব্য জানতে তার বড় ভাই খালেদ হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।
তবে সোহেলের স্ত্রী সায়মা আক্তার নিধিলা বলেন, ‘ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে আসার পর আমাদের রেখে সোহেল একাই ঢাকা ফেরেন। পরে বাড়ির কেয়াটেকারের কাছ থেকে জানতে পারি রোববার সকাল ৮টার দিকে বাসা থেকে সোহেলকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।’
প্রসঙ্গত, বিসিএসসহ বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে পিএসসির দুজন উপপরিচালক, দুজন সহকারী পরিচালকসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। রোববার ও সোমবার (৭ ও ৮ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এর মধ্যে মিরপুরের ব্যবসায়ী আবু সোলায়মান মো. সোহেলসহ সাতজনকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য মঙ্গলবার আদালতে নেয়া হয়। তবে সাতজনের মধ্যে ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী আবু সোলায়মান মো. সোহেল জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করেন।