ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বিসিএসের প্রশ্ন ফাঁসে যেভাবে পাল্টে যায় নিরাপত্তারক্ষীর জীবন

নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৪৭, ১০ জুলাই ২০২৪
বিসিএসের প্রশ্ন ফাঁসে যেভাবে পাল্টে যায় নিরাপত্তারক্ষীর জীবন
প্রশ্ন ফাঁসকারী নিরাপত্তারক্ষী শাহাদতের গ্রামের বাড়ি ও ইনসেটে শাহাদত হোসেন -ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) দুই উপ-পরিচালকসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট। বিসিএসের প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে একটি চ্যানেলে প্রতিবেদন প্রচারের পর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন তারা। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত সোমবার (৮ জুলাই) তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এরমধ্যে বিসিএসের প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্য হিসেবে উঠেছে শাহাদত হোসেনের নাম। তার বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাদিরগাছা এলাকার বাসিন্দা।

নারায়ণগঞ্জের পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী শাহাদত তার গ্রামের ভিটায় ৩ বিঘার ফলের বাগান ও বিলে ৫ বিঘা জমি করেছেন। এছাড়া ঢাকার মিরপুরে করেছেন বাড়ি। তবে গ্রামের বাড়িতে তিনি থাকেন না।

Advertisement

শাহাদতের খালাতো ভাই হানিফ আলী জানান, কাদিরগাছা এলাকার এই বাড়িতে তার ভাই  শাহাদতের স্ত্রী সন্তান কেউ থাকেন না। তার বাড়ি ও জমি দেখেন তার খালাতো ভাই হানিফ আলী। শুধুমাত্র ঈদে বাড়িতে আসেন তিনি। তার ভাইয়ের বাগানের ৩ বিঘার বাগান ও বিলের ৫ বিঘা জমিতে ধানের চাষ করেন তিনি। বাগানের জন্য তার ভাইকে কিছু দিতে হয় না। তবে ধানের একটি অংশ তিনি তার ভাইকে দেন।

হানিফ বলেন, তার ভাই ও তার পরিবার এখানে থাকেন না। ঢাকার মিরপুরে নিজস্ব বাড়িতে থাকেন।

কাদিরগাছা এলাকার সোবহান জানান, ২০০২ সালের দিকে এই এলাকার সাবেক সচিব মখলেছুর রহমান শাহাদতকে চাকরি দিয়েছিলেন। তবে কী চাকরি তা প্রতিবেশীরা জানতেন না। তবে প্রতিবেশীদের টাকার দরকার হলে শাহাদতের কাছে চাইলে দিতো।

এলাকাবাসী রাহেলা জানান, ঈদের মধ্যে শাহাদত বাড়িতে এলে অনেক গরিব মানুষকে সহযোগিতা করতেন।

এ এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী মিঠু বলেন, গত ১০ বছর আগে পরিবর্তন আসে। ঢাকায় বাড়ি গাড়ি ও এলাকায় জমি কিনেন তিনি। একজন নিরাপত্তা প্রহরী শুধুমাত্র বেতন দিয়ে এত কিছু করা সম্ভব না। তাই শাহাদতের সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য দুদকের প্রতি দাবি করেন তিনি।

এদিকে, জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পিএসসির যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম এসেছে, দেখা যাচ্ছে তারা আগেও এ ধরনের গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন সময় পিএসসির নিজস্ব অনুসন্ধান ও তদন্তেই তা বেরিয়ে এসেছে। পিএসসির ভেতরেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের একটি চক্র কাজ করছে। এরমধ্যে কেউ ধরা পড়েছেন, কেউ এখনো আড়ালে রয়ে গেছেন। বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক সংস্থা পিএসসি কেন ফৌজদারি মামলা করেনি, সেই প্রশ্নও তুলেছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অপরাধ স্বীকার করে গতকাল মঙ্গলবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ছয়জন। এরমধ্যে পিএসসির সাবেক ও বর্তমান কর্মচারীই তিনজন। তারা হলেন, সৈয়দ আবেদ আলী, খলিলুর রহমান ও সাজেদুল ইসলাম।

গ্রেফতারকৃত ১৭ জনের বিষয়ে আদালতে জমা দেওয়া সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামিরা ৫ জুলাই পিএসসির অধীনে নেয়া বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী (নন-ক্যাডার) পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন। নিয়োগ প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন এবং প্রশ্নের উত্তর বিতরণ করেছেন তারা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন, বিগত বছরগুলোতেও বিভিন্ন সময়ে বিসিএসসহ পিএসসির বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে তারা জড়িত ছিলেন।

সিআইডি বলছে, ৫ জুলাইয়ের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অন্তত ৫০ জন জড়িত। এখন পর্যন্ত গ্রেফতারকৃত ১৭ জনকে মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!