জানা যায়, হোসেনপুর পল্লী বিদ্যুৎ সাব স্টেশন থেকে উপজেলার পৌর এলাকা ও ৬ টি ইউনিয়ন ছাড়াও পাকুন্দিয়া ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া ও ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের ৫৫ হাজার গ্রাহকের জন্য ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এর চাহিদা রয়েছে। সেখানে এর আগে ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হতো। যেজন্য লোডশেডিং আগে থেকেই নিত্য দিনের সঙ্গী হিসেবে যন্ত্রণাদায়ক ছিলো।
এরইমধ্যে পল্লীবিদ্যুৎ এর গ্রাহকরা আশাবাদী ছিল এ সমস্যা অচিরেই নিরসন হবে। কিন্তু সে আসায় গুড়বালি। বরং এখন আগের চেয়েও বরাদ্দ কমিয়ে এ কয়দিন ধরে বরাদ্দ নামিয়ে আনা হয়েছে ৪.৩৩ মেগাওয়াটে।
.png)
এমনটা জানান হোসেনপুর পল্লী বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা। কিশোরগঞ্জ যশোদল ট্রান্সমিশন কেন্দ্র থেকে এক সঙ্গে ১২টি বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সাব স্টেশনে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়ে থাকে।
গত কয়েকদিন বৃষ্টিতে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে থাকায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও এ কয়েকদিনের গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আবারো লোডশেডিং বেড়ে গেছে। এর আগে হোসেনপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ফেসবুক পেইজে লোডশেডিং এর তীব্রতা বেড়ে গেলে রামপালের কয়লাবিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার কারণ দেখিয়ে গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ করা হয়েছিল। কয়েক দিন ধরে আবারো দিন রাত ২৪ ঘণ্টায় ১৭-১৮ ঘণ্টা অনবরত লোডশেডিং অস্বস্তির কারণ হয়ে পড়েছে।
চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এর প্রভাব পড়লেও নিরবে সয়ে নিতে হচ্ছে। লোডশেডিং এর কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার জন্য বাধ্য হয়ে জেলা সদরের দিকে ধাবিত হচ্ছেন। চাকরিজীবীরা রাতে গরমের কারণে নিরবচ্ছিন্ন ঘুমাতে না পারায় দিনের বেলায় কর্মস্থলে ঝিমিয়ে পড়ছেন। এমতাবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এখন সময়ের দাবি বলে জানান গ্রাহকেরা।
২০১৮ সালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে সাবস্টেশন স্থাপন করা হলেও বিতরণ ব্যবস্থা অপরিকল্পিত হওয়ায় এর সফল পাচ্ছেন না ৫৫ হাজার গ্রাহক। যে কারণে প্রতি মাসেই কারণে অকারণেই ৬-১২ ঘণ্টা এমনকি অনেক সময় ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হয় উপজেলাবাসীকে। এতে চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগে দিনাতিপাত করতে হয়।
হোসেনপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. মাসুদ রানা জানান, উপজেলার ৫৫ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে ১৫-১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। সেখানে ৪ থেকে সাড়ে ৪ মেগাওয়াট বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে; যে কারণে লোডশেডিং ছাড়া উপায় নেই। এছাড়াও প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার খোলা তারের ওভার হেড লাইন রয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিতরণ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা স্বাভাবিক। এ কারণে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর সেটি শনাক্ত করা অনেক সময় লেগে যায়। ত্রুটি চিহিৃত করার পর সেটি সারাইতে হলে প্রয়োজন নিরাপদ গ্রাউন্ডিং; যে কারণে সে কাজ করতে ৫-৬ ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যশোদল গ্রিড থেকে এক সঙ্গে পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ১২টি সঞ্চালন লাইনের মধ্যে হোসেনপুরের সঙ্গে তাড়াইল, কটিয়াদি ও নান্দাইল উপজেলার মুসল্লীর অংশ রয়েছে। যে কারণে তাড়াইল উপজেলা হোসেনপুর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরত্বে হলেও সেখানে ঝড়বৃষ্টির কারণে বিতরণ লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে এর সঙ্গে সংযুক্ত সকল লাইন বন্ধ রেখে ত্রুটি শনাক্ত করে লাইন চালু করতে হয়।
তিনি আরো জানান, তাড়াইল উপজেলার জন্য আলাদা সাব স্টেশন চালুর সব প্রক্রিয়া শেষ হলেও রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার কারণে সেটি চালু হচ্ছে না। সেটি চালু হলে হোসেনপুরে কিছুটা স্বস্তি পেতো। এটি চালু করতে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ এর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। গরম থেকে স্বস্তি পেতে যে জন্য গ্রাহকদের প্রকৃতির অনুকূল আবহাওয়ার উপরই ভরসা রাখতে হয়।