যে জেলার যুবকরা গরুর খামার করে স্বাবলম্বী
কুষ্টিয়ায় গরুর খামার করে স্বাবলম্বী হচ্ছে বেকার যুবকরা। এ জেলার শতাধিক বেকার তরুণ ও উদ্যোক্তা গরু পালনে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কেউ হাঁস-মুরগি পালন, কেউবা গরু-ছাগল পালন, কেউ মুদি, কম্পিউটার ও চা পাতার দোকান দিয়ে ব্যবসা করছেন।
সফল উদ্যোক্তা জমসের আলী ঋণ নিয়ে কয়েকটি গরু দিয়ে ডেইরি ফার্ম গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তার খামারে মোট ১৫টি গাভী রয়েছে। প্রতিদিন তিনি ১৫০ লিটার দুধ বিক্রি করেন।
জেলার আমবাড়ীয়া গ্রামে প্রায় দুই শতাধিক কৃষকরা নিজ বাড়িতেই গবাদিপশু লালন পালন করে তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন।
সফল খামারি মিরপুর উপজেলার বহল বাড়িয়া গ্রামের আইনুল হক বলেন, আমি কৃষক পরিবারের ছেলে। একটা সময় আমাদের ঘরে বেশ অভাব ছিল। তখন আমরা কয়েক বিঘা জমিতে চাষাবাদ করতাম। আমি মনে করি, কারো লক্ষ্য যদি ঠিক থাকে আর পরিশ্রম যদি করা যায়, তাহলে সফলতা আসবেই। মা-বাবার দোয়া আর নিজের পরিশ্রম ঠিকই তার সন্তানকে সার্থক করে। গবাদিপশু পালন করে নিজেকে গর্বিত মনে করি।
গরু পালনে স্বাবলম্বী হচ্ছেন ভেড়ামারা উপজেলার ক্ষেমিরদিয়াড় গ্রামের প্রান্তিক চাষি মাসুদ। এই গ্রামের অধিকাংশ খামারিই স্বাবলম্বী হয়েছেন। কোরবানি ঈদে বিক্রির পাশাপাশি সারা বছর গাভী গরু পালন করে সংসার চালান তারা। আগের থেকে অনেকটাই অভাব দূর হয়েছে।
মিরপুর উপজেলার ধুপইল গ্রামের গরু খামারি ইসমাইল হোসেন বলেন, আমাদের গ্রামের প্রায় সবাই গরু পালন করে। অনেকের খামারে সর্বনিম্ন ৪টি আর সর্বোচ্চ ১৫টি গরুও রয়েছে। আমরা বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট বাছুর ও কম দামে কিনে নিয়ে আসি। তারপর পালন করে মোটাতাজা করে ঈদে বিক্রি করি। আর গাভীগুলোকে পালন করে তা থেকে দুধ ও বাছুর পাই।
তিনি আরো বলেন, মোটাতাজা করে ঈদে ভালো দামে বিক্রি করতে পারি। আর গাভী থেকে সারা বছর দুধ ও বাছুর পাই। এতে আমাদের সংসার চলে যায়।
একই গ্রামের মমিনুর, আরব আলী, সিদ্দিক, আরজেম জানান, মোটাতাজাকরণে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা ইনজেকশন ব্যবহার করেন না। প্রাকৃতিকভাবে নেপিয়ার ঘাস, চালের ভাত, গুঁড়া, ভুসি, ভুট্টা ইত্যাদি খাইয়ে গরু মোটাতাজা করেন। এতে মাংসে কোনো প্রকার ক্ষতিকারক কিছু থাকে না। আর বাজারে এর চাহিদাও বেশি। তারা গরু বিক্রি করে লাভবান হতে পারেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, গ্রামের বাসিন্দারা প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজাকরণ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আল মামুন হোসেন মন্ডল বলেন, জেলার প্রায় সব উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ গরু পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। এর ফলে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আমরা খামারিদের সবধরনের পরামর্শ দিচ্ছি।