ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

সাবিনার স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প

জিয়াউল ইসলাম সাজু, মেহেরপুর
প্রকাশিত: ১৫:২৯, ৭ মার্চ ২০২৪
সাবিনার স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প
সাবিনা ইয়াসমিন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সাবিনা ইয়াসমিন একজন সংগ্রামী ও স্বাবলম্বী নারী।  ছোটবেলা থেকেই দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়ার কারণে মা-বাবার কাছ থেকে দেখেছেন কীভাবে সংগ্রাম করতে হয়। তিনিও সংগ্রাম করে নিজের জীবন বদলে দিচ্ছেন। বাল্যবিয়ের শিকার হয়েও সংগ্রামী জীবন নিয়ে তিনি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। 

সম্প্রতি নিজেই জানালেন তার এই সংগ্রামী জীবনের গল্পের কথা। তার ভাষ্য, মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নের হাড়িয়াদহ গ্রামে বেড়ে উঠেছি। দরিদ্র মা-বাবার পরিবারে আমরা ৪ বােন ও ১ ভাই। আমি বােনদের মধ্যে ছােট।  সন্তানদের নিয়ে  দিনমজুর বাবার সংসার চালানােই কষ্টকর। তারপর আবার আমাদের লেখাপড়ার খরচ যােগানাে।  আমার বড় তিন বােনদের অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ে হয়ে যায়।  আমি যখন পঞ্চম শ্রেণি পাস করি। ইচ্ছে ছিল আরাে লেখাপড়া করার। কিন্তু দরিদ্র বাবা মেয়ে সন্তানদের সংসারের বােঝা মনে করে অন্য বােনদের মতাে আমাকে ২০০২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিয়ে দিলেন। যে ছেলের সঙ্গে আমার বিয়ে হলাে। কারণে-অকারণে আমাকে নির্যাতন করতে থাকে। বিয়ের কয়েক বছর পর আমার একটি পুত্র সন্তান হলাে। 

সন্তানের বয়স যখন ৫ বছর। তখন আমার স্বামী আমাকে তালাক দেয়। ওই সময় সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি ফিরে আসতে হলাে।  বাবার সংসারে অভাবের কারণে আমি নিজের পায়ে দাঁড়ানাের জন্য গ্রামে এক নারীর কাছে দর্জি প্রশিক্ষণ নিই। প্রশিক্ষণ শেষে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি সেলাই মেশিন নিয়ে দর্জির কাজ শুরু করি। আস্তে- আস্তে গ্রামের অনেক নারী আমার কাছে তাদের পােশাক তৈরি করে নেয়। 

এছাড়াও কয়েকজন স্কুল পড়ুয়া মেয়ে আমার কাছে দর্জি প্রশিক্ষণ নেয়। আস্তে আমার ব্যবসা প্রসার হতে থাকে। এরই মধ্যে এলাকার এক ব্যক্তির সঙ্গে আমি আবারাে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হলাম। বিয়ের পর আমার আরাে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নিলাে। 

এদিকে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে যে আয়-রােজগার  হয়। আমি বিশ্বাস করে আমার স্বামীকে সব টাকা দিয়ে দিই। পরে আমার দ্বিতীয় স্বামীও আমাকে থুইয়ে তার আগের স্ত্রীর কাছে চলে যায়। তারপরও আমি পেছনে ফিরে তাকায়নি। আমি দর্জি ব্যবসার পাশাপাশি  মুদি ও চায়ের দােকানদারি শুরু করি। তিন ব্যবসা এক সঙ্গে শুরুর ফলে আমার ব্যবসা আবার চাঙ্গা দেয়। বর্তমান আমি ব্যবসা করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি। নারীরা যে সংসারের বােঝা না। এই মনে করেই আমার সংগ্রামে জীবন শুরুর পর। আজ আমি স্বাবলম্বী।  আমাকে অন্যের কাছে হাত পাততে হবেনা। 

এদিকে, সাবিনা ইয়াসমিনের সংগ্রামী জীবনকে কাটিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য গাংনী উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের পক্ষ থেকে তাকে ২০১৮ সালে জয়ীতা পুরস্কারকৃত করা হয়।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: মেহেরপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!