ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

খলসুন তৈরিতে ভাগ্য বদল গ্রামীণ নারীদের

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:০৯, ২৫ জুলাই ২০২৪
খলসুন তৈরিতে ভাগ্য বদল গ্রামীণ নারীদের
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গ্রামবাংলার মাছ ধরার প্রাচীনতম একটি উপকরণ বাঁশের তৈরি খলসুন (চাঁই)। তাল গাছের ডালের আঁশ, বাঁশ, কট সুতা দিয়ে তৈরি এসব খলসুন বর্ষা মৌসুমে খাল, বিল, নদীতে ছোট মাছ ধরার ক্ষেত্রে বেশ জনপ্রিয়। 

পানিতে চারিদিক যখন টইটম্বুর থাকে তখনি মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করেন জেলেরা। তখনি খলসুন এর ব্যাপক চাহিদা বাড়ে। আর এই খলসুন গুলো তৈরি করছেন গ্রামীণ নারীরা। এক দিকে যেমন রোজগার হচ্ছে অপরদিকে সংসারের হাল ধরছেন খলসুন বিক্রির টাকা দিয়ে।

সরেজমিন নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ডাংগাপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের বটগাছের নিচে সারিবদ্ধভাবে বসে খলসুন তৈরির কাজ করছেন গ্রামের অনেক নারী। পুরুষরা বাঁশ কেটে ছোট ছোট মাপ অনুযায়ী রং করে ঘেষে খলসুন বানানোর উপযোগী করে দিচ্ছেন। নারীরা তাল ডালের আঁশ দিয়ে খলসুন বুননের কাজ করছেন আর এই কাজ যারা করে তাদের খলসুন শিল্পী বলা হয়। বাঁশ, কট সুতা এবং তাল গাছের আঁশ দিয়ে তৈরি এসব খলসুন মানের দিক দিয়ে ভালো হওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা পাইকারি মূল্যে কিনে নিয়ে যায়। গ্রামের সাপ্তাহিক হাটগুলোতে খুচরা মূল্যে বিক্রি করেন। আবার মাছ শিকারীরাও এখান থেকে পাইকারি মূল্যে কিনে নিয়ে যায়।

এ পেশায় জড়িত পরিবারগুলোর দাবি, কাজে প্রচুর কষ্ট হলেও এটার সঠিক মূল্য না থাকায় দিন দিন আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকেই। তবে ঋষি সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের পরিবারের সকল সদস্যরা মিলে এ কাজগুলো করে থাকেন। কারিগররা এসব খলসুন তৈরিতে প্রকার ভেদে খরচ হয় ১০০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা। আর বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ২২০ টাকা। এতে খুব বেশি লাভ না হলেও পৈতৃক এ পেশা ছাড়তে তারা নারাজ। 

ঋষিপাড়া গ্রামের খলসুন কারিগর সোহাগী রানী বলেন, খলসুনের কাজ করে আমাদের পরিবার নিয়ে খুব ভালোভাবে চলতে পারি দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা এসে আমাদের পণ্যগুলো নিয়ে যায়। তবে আমাদের বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হলে ব্যবসাটা আরো বড় করতে পারতাম। 

একই গ্রামের নন্দ রানী বলেন, আমাদের পরিবারের সবাই এ কাজের সঙ্গে জড়িত। পুরুষরা আমাদের কাজে সহযোগিতা করে সব সময়। খলসুন বিক্রি করে যা টাকা রোজগার হয় সেটা দিয়ে পরিবার চালাই। গ্রামের চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। আমাদের যদি একটা ব্রিজ হতো তাহলে সরাসরি হাটে গিয়ে বিক্রি করতে পারতাম এবং ভালো দাম পেতাম।

সুবল চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, এক সময় প্রচুর কাজ করতাম। এখন বয়সের ভারে আর শরীর চলে না। এখন গ্রামের বধূরা এ কাজগুলো করে। আমাদের অন্য কাজে যাওয়ার সুযোগ নেই কারণ এই কাজগুলো বাবা দাদার শেখানো ঐতিহ্য। তবে কারেন্ট জালের দাপটে দেশি প্রযুক্তির বাঁশের তৈরি খলসুন সামগ্রীর ব্যবহার অনেকটাই কমে গিয়েছে বলে আগের মতো চাহিদা নেই। 

বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক শামীম আক্তার মামুন বলেন, আমরা উদ্যোক্তাদের পাশে আছি। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য শতকরা ৫ ভাগ এবং পুরুষ উদ্যোক্তাদের জন্য ৬ ভাগ বিনা সুদে খুব সহজ পদ্ধতিতে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। তারা চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিতে পারেন৷

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে/এমআই
ট্যাগ: নওগাঁ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!