ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

সাথি ফসলের সঙ্গে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ, লাভবান কৃষকরা

মানিকগঞ্জ ‍প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:২৬, ২৭ জুলাই ২০২৪
সাথি ফসলের সঙ্গে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ, লাভবান কৃষকরা
ছবি অলংকরণ: ডেইলি বাংলাদেশ

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ। স্বল্প খরচ আর অল্প সময়ে ভালো ফলন হওয়ায় মিষ্টি কুমড়ার আবাদের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। তাদের উৎপাদিত এসব কুমড়া স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন বাজারে।

ঘিওর উপজেলা কৃষি অফিস কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ১০০ হেক্টর জমিতে সুইট বেঙ্গল-১, সুইট বেঙ্গল-২, ব্লাক স্টোন, বাংলা সুইট ও থাইল্যান্ড-১ জাতের মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে বালিয়াখোড়া ও পয়লা ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়। এই উপজেলায় তিন হাজার মেট্রিক টন মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা।

সরেজমিন ঘুরে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ঘিওর উপজেলায় মিষ্টি কুমড়ার আবাদ ভালো হয়েছে। অধিকাংশ কৃষকরাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন মিষ্টি কুমড়া সংগ্রহে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে এমন কর্মযজ্ঞ। দুই কেজি থেকে শুরু করে আট কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে এসব কুমড়া। আকার ও মান ভালো হওয়ায় মানিকগঞ্জের চাহিদা মিটিয়ে এসব কুমড়া নেয়া হচ্ছে সাভার, আশুলিয়া, কারওয়ান বাজার, মিরপুর, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন বাজারে।

বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের বাষ্টিয়া গ্রামের চাষি আবুল হোসেন বলেন, তিন বছর ধরে আমি মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করছি। আমি মূলত আলুর চাষ করতাম। তারপর তিনবছর ধরে সাথি ফসল হিসেবে আলুর সঙ্গে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করি। এই বছর মিষ্টি কুমড়ার ভালো ফলন হয়েছে। আমি তিন বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করেছি। সব মিলিয়ে আমার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর পাইকারিভাবে সব কুমড়া এক লাখ ৩০ হাজার টাকা বিক্রি করেছি।

রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে মিষ্টি কুমড়াপয়লা ইউনিয়নের পয়লা গ্রামের রহমান শেখ বলেন, আমার জমিটা একটু উঁচু হওয়ায় ধানের ফলনটা বেশি হয় না। আমার দেড় বিঘা জমিতে সবসময়ই কোনো না কোনো সবজির আবাদ করি। আমি ৭৮ বছর ধরে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করছি। এবার সুইট বেঙ্গল-১ ও ব্লাক স্টোন জাতের চাষ করি। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে মিষ্টি কুমড়া ক্ষেত থেকে তোলা পর্যন্ত আনুমানিক ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সব খরচ বাদ দিয়ে আমার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা লাভ হবে।

ফরিদুর রহমান নামের এক পাইকারী ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এই বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন থেকে প্রতিবছর আমি মিষ্টি কুমড়া নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করি। সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ দিন ট্রাক ভরে কুমড়া নেয়া হয়। বিভিন্ন জাত ও আকারের কুমড়া পাওয়া যায় বলে বেশ চাহিদা আছে। প্রতি কেজি মান ও আকার ভেদে ১০ থেকে ১৩ টাকা পর্যন্ত পড়ে।

ঘিওর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, আমরা উপজেলায় বিষমুক্ত সবজি আবাদের চেষ্টা করছি এবং স্থানীয় চাষিরাও বেশ সারা দিচ্ছে। ঘিওর উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১০০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে। মূলত উপজেলায় যেসব কৃষকরা আলুর আবাদ করেন তাদেরকে আমরা সাথি ফসল হিসেবে মিষ্টি কুমড়া চাষের পরামর্শ দেই। তাতে করে কম খবরে বেশ লাভবান হওয়া যায়। এবার আমাদের উপজেলায় যে পরিমাণ মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে তার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!