ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পরকীয়া প্রেমে বাধায় হত্যাকাণ্ডে একজনের মৃত্যুদণ্ড

কুমিল্লা প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৬:৩৯, ৩০ জুলাই ২০২৪
পরকীয়া প্রেমে বাধায় হত্যাকাণ্ডে একজনের মৃত্যুদণ্ড
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুমিল্লা সদর দক্ষিণের রাজ গোয়ালিতে পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় মো. ইয়াছিন মিয়াকে (২৫) হত্যার দায়ে একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপরজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক রোজিনা খান এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শাহজাহান মিয়া (৩৭) ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সেলিম মিয়া (৪৭) কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার জোলাই কুড়িয়াপাড়া (ফকিরমূড়া) গ্রামের মৃত আলী মিয়ার ছেলে। রায় ঘোষণাকালে দণ্ডপ্রাপ্ত উভয় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

মামলার বিবরণে ও আদালত সূত্রে জানা যায়, মো. ইয়াছিন মিয়ার খালাতো ভাইয়ের স্ত্রী মোসা. জেসমিন আক্তারের (৩৭) সঙ্গে আসামি মো. শাহজাহান মিয়ার পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়া হয়। আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ২০২০ সালের ১৮ মে দিবাগত রাতে স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার সময় পথরোধ করে প্রথমে ভিকটিমের বড় ভাই বাদী মো. মিজানুর রহমানকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে ভিকটিম ইয়াছিন মিয়ার বুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার শেষে পালিয়ে যায়। নিহতের স্বজনরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিম ইয়াছিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পরদিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলাধীন জোলাই কুড়িয়াপাড়া (ফকিরামূড়া) গ্রামের মো. শাহজাহান খানের ছেলে নিহতের বড় ভাই মো. মিজানুর রহমান (৩৫) বাদী হয়ে একই গ্রামের মৃত আলী মিয়ার তিন ছেলেসহ ৫ জনকে আসামি করে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জসিম উদ্দিন ও কুমিল্লা পিবিআই এসআই আব্দুর রজ্জাক সর্দার তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনার ৩ দিন পর অর্থাৎ ২০২০ সালের ২১ মে আসামি মো. শাহজাহান ও ১১ জুন আসামি সেলিম মিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করলে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন হয়।

দণ্ডিত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০২১ সালের ১৭ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তৎপর মামলাটি বিচারে আসলে ২০২৩ সালের ২৩ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় চার্জ গঠনক্রমে রাষ্ট্রপক্ষে ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক শুনানি এবং আসামি মো. শাহজাহান মিয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হয়। পরে আসামি মো. শাহজাহান মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড এবং আসামি মো. সেলিম মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত।

এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা আশাবাদী শিগগিরই উচ্চ আদালত রায় বহাল রেখে দ্রুত কার্যকর করবেন।

এদিকে, এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষে নিযুক্তীয় কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন টিপু বলেন, রায়ের কপি হাতে পেলে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: কুমিল্লা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!