জনবসতি এলাকায় পোল্ট্রি ফার্ম, অতিষ্ঠ প্রতিবেশী
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে জনবসতি এলাকায় পোল্ট্রি ফার্ম নির্মাণ করে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে গত বুধবার (৩১ জুলাই) কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর কাঁচারীপাড়া গ্রামের মৃত মজলু মিয়ার ছেলে মো. আলী সোহেল (৩৭) উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. আলী সোহেলের প্রতিবেশী মৃত মো. ফজলু মিয়ার ছেলে মো. বকুল মিয়া (৫০) লক্ষ্মীপর কাঁচারীপাড়া নিজ গ্রামে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পোল্ট্রি ফার্ম নির্মাণ করে বহুদিন ধরে পরিবেশ দূষণ করে আসছেন। যার ফলে এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। এর প্রভাবে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে আশেপাশের বসবাসকারী শিশু থেকে শুরু করে মধ্য বয়সীসহ বৃদ্ধ বয়সী সবাই। দুর্গন্ধের ফলে আশেপাশের বসবাসকারী সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অসহনীয় দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষিত হওয়ার ফলে ঐ এলাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডায়রিয়া, আমাশয়, জ্বর, কোষ্ঠকাঠিন্য ও শ্বাসকষ্টসহ নানান রোগব্যাধি।
তাছাড়া পোল্ট্রি ফার্মটি আলী সোহেলের বসতঘরের সামনে এবং বসতঘরের সীমানা প্রাচীর নিয়ে স্থাপিত হওয়ায় তার বৃদ্ধ মাসহ পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম ও বসবাস করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন আলী সোহেল। এভাবে পরিবেশ দূষণ চলতে থাকলে নিজের ভিটাবাড়ি ছেড়ে পরিবার নিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না বলে জানান তিনি।
জনবসতি এলাকার ৫০০ গজ দূরত্বে মুরগি ও ডিম উৎপাদনের ফার্ম করার নিয়ম থাকলেও প্রতিবেশী বকুল মিয়া এসব নিয়ম-কানুন মানছেন না। এমনকি তার কাছে নেই পরিবেশ ছাড়পত্র ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের রেজিস্ট্রেশন।
বসতবাড়ির আঙিনায় পোল্ট্রি ফার্ম নির্মাণকালে জনদুর্ভোগ ও তাদের অসুবিধার কথা উল্লেখ করে গ্রামের ভেতর বসতি এলাকায় পোল্ট্রি ফার্ম নির্মাণ করতে বাধা নিষেধ করার পরেও কোনো ধরনের নিষেধ তোয়াক্কা না করে পোল্ট্রি ফার্ম নির্মাণ করে মুরগি পালন করে আসছেন মো. বকুল মিয়া।
এর ফলে প্রতিনিয়তই ফার্ম পরিষ্কার করার সময় ফার্মের মুরগির বিষ্ঠা ও ময়লার দুর্গন্ধযুক্ত পানি আলী সোহেলের বসতঘরের আঙিনা দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে অনেক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে আলী সোহেলের পরিবার। এমনকি এই দুর্ভোগের কথা বলতে গিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন হুমকি ধামকির শিকার হতে হচ্ছে আলী সোহেল ও তার পরিবারকে। দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে পোল্ট্রি ফার্মটি অন্যত্র সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মো. বকুল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বসতবাড়ি সংলগ্ন মুরগির ফার্ম নির্মাণ করার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আলী সোহেল যা পারে তা করুক।’
অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আলম বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।