স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে উপজেলার ও সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে ৩-৪ মাস পানি থাকে। এ সময় ওসব এলাকার লোকদের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে চলাচলে নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। আর শুষ্ক মৌসুমে হেঁটে ও যানবাহন দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করেন। এখন পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিতাস ব্রিজ এলাকায় নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দেখতে বিকেলে আসছেন মানুষ। এ সুযোগে এলাকার অনেকেই নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
সরেজমিনে খড়মপুর মাজার সংলগ্ন স্থান ও তিতাস ব্রিজ এলাকায় দেখা যায়, অনেকেই নৌকা নিয়ে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছেন। নিম্নাঞ্চল এলাকার লোকজন তাদের প্রয়োজনীয় কাজ করতে নৌকা দিয়ে যাতায়াত করছেন। তাছাড়া চারদিকে পানি থৈ থৈ করায় প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে বিকেলে তিতাস ব্রিজ এলাকায় অনেককেই আসতে দেখা গেছে। এরমধ্যে কেউ এসেছেন স্ত্রী-পুত্র নিয়ে, কেউ বা এসেছেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে, আবার কেউ বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন নিয়ে এসেছেন। তরুণ-তরুণীরা আড্ডা, আনন্দ আর হৈচৈ করে মাতিয়ে তুললেও কেউ কেউ তিতাস নদীতে নৌকা দিয়ে মনের আনন্দে ঘুরছেন।
.png)
চান্দি এলাকার নৌকাচালক (মাঝি) মো. জসিম মিয়া বলেন, কৃষিকাজের ফাঁকে অবসরে দৈনিক মজুরিতে কাজ করছি। এখন বর্ষা মৌসুম হওয়ায় চারদিকে পানি থাকায় কৃষিকাজসহ অন্য কোনো কাজ নেই। এ অবস্থা থাকে ৩-৪ মাস। তাই জীবিকার প্রয়োজনে নৌকা চালিয়ে সংসারের চাকা সচল রাখছি। এলাকার নিম্নাঞ্চলের লোকজন সড়ক পথে যেতে না পারায় নৌকা দিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গাতে আসা-যাওয়া করছে। সারাদিন নৌকা চালিয়ে খরচ বাদে ৬০০-৭০০ টাকার ওপর আয় হয়।
তিনি আরো বলেন, পানি চলে গেলে এলাকায় বর্গা জমি চাষ ও শ্রমিকের কাজ করা হয়। এখন বেকার বসে না থেকে নৌকা চালানো অনেক ভালো।
মো. মালেক মিয়া বলেন, কৃষিকাজের পাশাপাশি রাজমিস্ত্রির সঙ্গে শ্রমিকের কাজ করতাম। কিন্তু এখন চারদিকে পানি থাকায় তেমন কোনো কাজ নেই। পরিবারে কথা চিন্তা করে গত ১৫ দিন ধরে ভাড়ায় নৌকা চালাচ্ছি। প্রতিদিন নৌকা ভাড়া, তেল খরচ ও একজন শ্রমিককে টাকা দিয়ে ৬০০ টাকার ওপর আয় হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লোকজন কম চলাচল করলেও বিকেলে শৌখিন লোকজন চলাচল করে বেশি।
তিনি আরো বলেন, বাড়ির চারদিকে পানি। হেঁটে চলার কোনো সুযোগ নেই। নৌকা হলো এখন চলার ভরসা।
চান্দি গ্রামের যাত্রী মো. সিরাজ মিয়া বলেন, আমাদের গ্রাম নিম্নাঞ্চলে হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে ৩-৪ মাস পানি থাকে। তাই নৌকা ছাড়া চলাচল করা যায় না। নৌকা থাকায় চলাচলে কোনো চিন্তা করতে হয় না।
মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলার বৈষ্ণবপুর, বনগজ, কৃষ্ণনগর ও সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে চলাচল করে। কারণ তাদের বেশির ভাগেরই বাড়ি নিম্নাঞ্চলে হওয়ায় নৌকা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। তাছাড়া এখন বর্ষা মৌসুম হওয়ায় বিকেলে তিতাস নদীতে নৌকা দিয়ে অনেকেই ভ্রমণ করছেন।
প্রবাসী মো. মোবারক হোসেন বলেন, গত ২ মাস আগে বাড়িতে এসেছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে স্ত্রীকে নিয়ে কোথাও বেড়াতে যাওয়া হয়নি। তাই স্ত্রীকে নিয়ে তিতাস পাড়ে ঘুরতে আসা। নৌকার ভাড়া প্রতি ঘণ্টা ২৫০ টাকা নিয়েছে। এখানকার বিকেলের পরিবেশটা খুব ভালো লেগেছে। এ স্থানটির মনোরম দৃশ্য যে কারোরই ভালো লাগবে।